আবর্জনা দূষণে ২৯ পৌরসভা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
নওগাঁ সদর পৌরসভায় ২০১৮ সালে স্যাানিটারি ল্যান্ডফিল ও পয়োবর্জ্য পরিশোধনাগার নামের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কাজ শেষ হয় ২০২২ সালে। নির্মাণকাজ শেষ হলেও চালু করা যায়নি বর্জ্য পরিশোধনাগারটি। এখন পৌর বর্জ্য ফেলা হচ্ছে যেখানে জায়গা ফাঁকা পাওয়া যায় সেখানে।
আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি পৌরসভায় নির্দিষ্ট করা আছে ময়লার ভাগাড়। কিন্তু সেখানে ময়লা ফেলা হয় না। আশপাশে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। এতে পৌর এলাকার বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে জলাশয়ে বা আবাদি ভূমিতে। আবার রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হয় মুসাখান নদে। দখল ও দূষণে সেই নদ এখন মৃতপ্রায়।
এভাবে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩০টি পৌরসভার মধ্যে ২৯টির বর্জ্যই ফেলা হয় যেখানে সেখানে। শুধু রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হয় সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনে। ২৫টি পৌরসভার একটিরও নেই নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন।
রাজশাহীর কাঁকনহাট পৌরসভার বর্জ্য পৌর এলাকার গড়গড়িয়া এলাকায় রাস্তার ধারে ফেলা হয়। স্থানীয় লোকজন বলছেন, দীর্ঘদিন থেকে বর্জ্য ফেলার কারণে দুটি বড় মেহগনিগাছ মারা গেছে। কদমশহর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান সরকার জানান, আগে তাদের মহল্লার রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলা হতো। জনগণের প্রতিবাদে তাদের মহল্লায় বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়েছে। আবার নতুন করে অন্য জায়গায় ফেলা হচ্ছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভারও কোনো ভাগাড় নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, পৌরসভাগুলো অনেক দিন আগে হয়েছে। কিন্তু কেউ ডাম্পিং স্টেশন করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি আসার পর থেকে জমি খুঁজছেন। নাটোরের বনপাড়া পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হয় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের পাশে। পৌর প্রশাসক লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বর্জ্যরে কারণে জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার থেকে চিঠি এসেছে। খাস জমি পেলে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করতে বলা হয়েছে। তারা জমি খুঁজছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল ও রহনপুর পৌরসভায় ভাগাড় আছে। কিন্তু বর্জ্য ফেলা হয় যেখানে সেখানে। কারণ ভাগাড়টি আগেই আবর্জনার পাহাড়। এখন বর্জ্য ফেলা হয় রাস্তার পাশে। ফলে পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠেছে। দুর্গন্ধে ওইসব এলাকা দিয়ে স্বাভাবিক যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে মানুষের।
নওগাঁর ধামইরহাট পৌর অফিসের সামনে ও চলাচলের রাস্তার পাশে দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে ময়লার বিশাল স্তূপ জমে আছে। পৌরসভার নিজস্ব কোনো নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র না থাকায় বাধ্য হয়ে দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত স্থানেই এসব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পচা খাবার, পলিথিন ও প্লাস্টিকসহ নানা বর্জ্য পচে উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে নাক-মুখ চেপে পথচারী ও এলাকাবাসীকে চলাচল করতে হচ্ছে। একই অবস্থা নজিপুর পৌরসভার।
স্থানীয় সরকার বিভাগের রাজশাহীর উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার একটি মৌলিক চাহিদা হচ্ছে ডাম্পিং স্টেশনে। তিনি সদ্য এসেছেন। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে কোনোটার ভাগাড়ের অনুমোদন আছে কি না। তিনি তাহেরপুর পৌরসভা পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছেন তাদের ভাগাড়ের অনুমোদন আছে, কিন্তু তারা করেনি। এ জন্য তাদের তাগাদা দিয়ে এসেছেন। বাকিগুলো খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।
আর স্থানীয় সরকার বিভাগের নাটোরের উপ-পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘আমি মনে করি পৌরসভা হওয়ার আগেই ভাগাড়টা ঠিক করা দরকার। কিন্তু পৌরসভার সব কার্যক্রম চলছে, ভাগাড়টা হচ্ছে না। এত দিন জনপ্রতিনিধিরা এভাবেই চালিয়েছেন। নাটোরের সদরেরটা বোধ হয় হচ্ছে।’
রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাছমিনা খাতুন বলেন, এভাবে রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলে রাখায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তারা বেশকিছু পৌরসভাকে বিষয়টি আগেই জানিয়েছেন। তার পরও অনেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। (প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি রফিকুল আলম ও নওগাঁ প্রতিনিধি বাবুল আখতার রানা)।
