আমার সব আশা শেষ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের রাউজানে পানির নলকূপের গর্তে পড়ে মৃত্যু হয় তিন বছরের শিশু মিজবাহের। বুধবার প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর অভিযান চালিয়ে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। ওই শিশুকে নিয়ে আহাজারি করতে থাকেন বাবা সাইফুল। তিনি বলতে থাকেন-‘আমার সব সুখ সব আশা শেষ হয়ে গেছে।’
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন শিশুর বাবা।
গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, সাইফুলের বাড়িটি নিস্তব্ধ হয়ে আছে। প্রতিবেশীরা আসছেন পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে। দেখছেন শিশু মিজবাহর প্রাণ যাওয়া সেই নলকূপের গর্ত। অপলক দৃষ্টিতে বাবা সাইফুল ইসলামও তাকিয়ে আছেন তার ছেলের জীবন কেড়ে নেওয়া গর্তের দিকে। তিন বছর বয়সি সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ তিনি। ছেলের মৃত্যুর শোকে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দিনমজুর হলেও আমাদের অভাবের সংসারে সুখের কমতি ছিল না। এক কন্যাসন্তানের পর আমাদের কোল আলো করে মিজবাহ পৃথিবীতে এসেছে। অভাব-অনটনে দিন পার করলেও সুখে ভরা ছিল আমার প্রিয় সন্তান মিজবাহকে নিয়ে। কিন্তু সেই সুখ আর থাকল না। আমার সব সুখ শেষ হয়ে গেছে। নলকূপের গর্ত সব কেড়ে নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আসর নামাজের পর ভাইবোন খেলছিল। হঠাৎ খবর আসে আমার ছেলে পড়ে গেছে। আমি ভেবেছি পাহাড়ারে টিলা থেকে পড়ে গেছে। এসে দেখি পানির জন্য বসানো পরিত্যক্ত নলকূপের গর্তে আটকে পড়েছে। আমি আসার পর আমাকে সে বারবার বলছিল-‘বাবা আমাকে তোলো’। আমি হাতের কাছে যা পেয়েছি তা দিয়ে অনেক চেষ্টা করেছি তোলার জন্য, কিন্তু তুলতে পারিনি। পরে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের লোকজন এসে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর আমার ছেলেকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু উপজেলা হাসপাতালে নিতে নিতে সে আর আমাদের মাঝে নেই। আমাদের সব আশা আর সুখ নিমিশেই শেষ হয়ে গেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু বলেন, নলকূপ খননের সময় প্রথমে যে গর্তটি করা হয় সেখানে পানি পাওয়া যায়নি। পরে পাশে আরেকটি গর্ত করা হয়। তবে আগের গর্তটি তারা ভরাট করেনি। যার কারণে এত বিপদ নেমে এলো। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডিকে প্রধান করা হয়েছে। সাত কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর প্রায় চার বছর আগে এটি বসিয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ার কারণে পাশে আরেকটি গর্ত করে নলকূপ বসানো হয়েছে।
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিত্যক্ত নলকূপে পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। শিশু মৃত্যুর জন্য কারও গাফিলতি আছে কি না আমরা তদন্ত করছি।’
