‘আলোচনার টেবিলে নয়, ক্ষেপণাস্ত্রের জোরেই শত্রুপক্ষ থেকে ছাড় আদায় করে ইরান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে চূড়ান্ত দর-কষাকষির শেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। শুক্রবার তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে হুংকার দিয়ে বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো আলোচনার টেবিলে বসে নয়, বরং নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিতেই শত্রুপক্ষের কাছ থেকে ছাড় আদায় করে নেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ঘালিবাফ লেখেন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে নয়, ক্ষেপণাস্ত্রের জোরেই ছাড় আদায় করি; আর আলোচনা কেবল সেই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি বা মুখের কথায় বিশ্বাস করে না, তাদের কাছে কেবল বাস্তব পদক্ষেপই গুরুত্বপূর্ণ।

ঘালিবাফের এই কঠোর মন্তব্যটি এমন একসময়ে এলো যখন আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, তেহরান এবং ওয়াশিংটন একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের কাছে তেহরানের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠানো হয় যে, যুদ্ধ বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনের সর্বশেষ খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে ইরান সন্তুষ্ট। এই খবর পাওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে সই করবেন কি না তা নির্ধারণ করতে তিনি আরও কয়েক দিন সময় নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করতে চান।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই খসড়া নথিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন—এমন সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত বার্তা পাওয়ার আগে ট্রাম্পের এই চুক্তিতে সই করার সম্ভাবনা নেই।

আমেরিকা যখন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে, ঠিক তখনই ইরানের শীর্ষ আলোচক ঘালিবাফ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন আগে পদক্ষেপ না নিলে তেহরান কোনো নমনীয়তা দেখাবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষ কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে চুক্তির পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো চুক্তির প্রকৃত বিজয়ী মূলত সেই পক্ষই হয়, যারা চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক পরের দিনটিতেই আবার যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত থাকে।

বর্তমানে যে খসড়া নথিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, তার অধীনে দুই দেশের মধ্যকার চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সরাসরি গোলাগুলির ঘটনার পর এই যুদ্ধবিরতি ইতোমধ্যেই তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন এক উত্তপ্ত সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই ইরানের শীর্ষ আলোচকের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও মন্তব্য সম্ভাব্য চুক্তিটির ভবিষ্যৎকে আবারও এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।

সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights