ইরান মডেলে চীনকে টেক্কা দেবে তাইওয়ান?
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ভূগর্ভস্থ পর্বত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তাইওয়ানের জন্য চীনকে ঠেকানোর এবং নিজেদের টিকিয়ে রাখার কৌশলগত মডেল হতে পারে বলে এশিয়া টাইমসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অত্যন্ত সুরক্ষিত এসব ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ইরানি বিমান বহরকে সুরক্ষা দিয়েছে, যা তাইওয়ানকেও চীনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে টিকে থাকার পথ দেখাতে পারে।
এ বছরের একাধিক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পরও হরমোজগান প্রদেশের ঈগল ৪৪ নামের ভূগর্ভস্থ বিমানঘাঁটিটি ইরান সক্রিয়ভাবে মেরামত ও সম্প্রসারণ করছে। সাটেলাইট চিত্র থেকে দেখা গেছে, সেখানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সচল করার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
ইরানের এই দ্রুত পুনর্গঠন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও ট্রাম্প প্রশাসনের সেই মূল্যায়নকে চ্যালেঞ্জ করছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ইরানের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেদের বিমানগুলোকে গভীর পর্বত সুড়ঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার কারণে ইরান তাদের বেশিরভাগ যুদ্ধবিমান অক্ষত রাখতে পেরেছে।
যদিও এ ধরনের হামলায় রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, তবুও বিমানগুলোকে প্রথম আঘাত থেকে বাঁচানোই ছিল এই সুড়ঙ্গ ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য। পরবর্তীতে টিকে থাকা পুরনো ইরানি যুদ্ধবিমানগুলোও সীমিত পরিসরে সফলভাবে পাল্টা হামলায় অংশ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও অন্যান্য প্রযুক্তির পাশাপাশি সীমিত যুদ্ধবিমানের কৌশলগত ব্যবহার এটাই প্রমাণ করে যে, সম্পূর্ণ আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ না পেয়েও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
ইরানের এই কৌশল তাইওয়ানের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাইওয়ানও তাদের পূর্ব উপকূলের চিয়াশান ও শিজিশানের মতো গভীর গ্রানাইট পর্বতের ভেতরের সুড়ঙ্গে প্রায় দুই শতাধিক যুদ্ধবিমান, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মাসের পর মাসের জ্বালানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে রেখেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সম্ভাব্য আক্রমণের প্রাথমিক ধাপে তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে তাইওয়ানের রানওয়ে ও বিমানগুলো ধ্বংস করা। তবে তাইওয়ান যদি তাদের প্রধান ফাইটার জেটগুলো এই সুড়ঙ্গগুলোতে নিরাপদ রেখে স্থলভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ও ড্রোনের সাহায্যে প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে পারে, তবে পরবর্তীতে সেগুলোকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এটি চীনের জন্য একবারে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করা অসম্ভব করে তুলবে এবং সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করবে।
কেবল তাইওয়ান নয়, কোরীয় উপদ্বীপে উত্তর কোরিয়ার সুসংগঠিত ভূগর্ভস্থ বিমানঘাঁটিগুলোও একই ধরনের কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে। সার্বিকভাবে, ইরান, তাইওয়ান ও উত্তর কোরিয়ার মতো অঞ্চলের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে যে, প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা বাহিনীগুলোর জন্য পার্বত্য ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সহ্য করার ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার একটি কার্যকর উপায়।
