ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধ ছিল, ইঙ্গিত দিলেন ভ্যান্স

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতবিরোধ ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

হোয়াইট হাউসের সাবেক মুখপাত্র শন স্পাইসারের সঞ্চালিত একটি অনুষ্ঠানে শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ভ্যান্স বলেন, “কোনও একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তার (ট্রাম্পের) সঙ্গে আপনার মতবিরোধ থাকলেও সেই মতপার্থক্য থাকতে পারে। আর আমার মনে হয়, ওই বিষয়ে আমারও মতবিরোধ ছিল।”

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ডানপন্থী ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের সঙ্গে ভ্যান্সের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। কার্লসন এ যুদ্ধ নিয়ে ‘খুব, খুব ক্ষুব্ধ’ বলে জানান ভ্যান্স।

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে এবং প্রকাশ্যেও আলোচনা হয়েছে। তিনি কী ভাবেন, তা আমি জানি এবং তার অবস্থান বুঝতে পারি।”

কার্লসন একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে তিনি সোচ্চার সমালোচক হয়ে উঠেছেন। ভ্যান্সের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এ বিষয়ে কার্লসনের সঙ্গে তার আলোচনায় কিছু মতপার্থক্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের অর্জন উপেক্ষা না করার আহ্বান
কার্লসনের সঙ্গে আগের একটি আলোচনার কথা তুলে ধরে ভ্যান্স বলেন, তিনি কার্লসনকে ট্রাম্পের অর্জনগুলোও স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ভ্যান্সের ভাষায়, “টাকারকে আমি যা বলেছি, তা হলো- একটি বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে গিয়ে অন্য সব অর্জনও যেন বাতিল করে না দেওয়া হয়।”

এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, “সীমান্ত বন্ধ রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে হাস্যকর বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের অবসান- এসব কি এমন অর্জন নয়, যেগুলোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত?”

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-প্রক্রিয়ায় বর্ণভিত্তিক নীতির বিরোধিতাকে নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন ভ্যান্স। তার মতে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও ট্রাম্পের অন্যান্য নীতিগত পদক্ষেপ ও অর্জনগুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত।

যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত
ভ্যান্সের বক্তব্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার অবস্থানগত পার্থক্যের ইঙ্গিত মিললেও, তিনি ঠিক কোন বিষয়ে বা কতটা দ্বিমত পোষণ করেছিলেন, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। ফলে তার বক্তব্য থেকে যুদ্ধের বিরোধিতায় ভ্যান্সের অবস্থান কতটা দৃঢ়, তা স্পষ্ট নয়।

তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা ও মতপার্থক্যের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। কার্লসনের মতো ডানপন্থী ভাষ্যকারের সঙ্গে ভ্যান্সের কথোপকথন এবং ট্রাম্পের অর্জন নিয়ে তার মন্তব্য এ বিতর্কেরই অংশ।

ভ্যান্স একই সঙ্গে কার্লসনের ক্ষোভের বিষয়টি বোঝার কথা বলেছেন এবং ট্রাম্পের অন্যান্য নীতিগত অর্জনকে উপেক্ষা না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights