ইরান যুদ্ধের সুযোগে রেকর্ড ‍মুনাফা, ফুলে-ফেঁপে উঠছে বড় তেল কোম্পানিগুলো

অনলাইন ডেস্ক

ইরান যুদ্ধের জ্বালানি বাজারকে অস্থির করলেও বড় বড় তেল কোম্পানিগুলোর লাভের খাতাই হয়েছে ভারি। তারা রেকর্ড মুনাফা করছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলি হামলার পর ইরানে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালিতে চরম বিঘ্ন ঘটেছে। এতে জ্বালানির দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এই পরিস্থিতির কারণে ট্রেডিং ডেস্কগুলো বাজারে অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক মুনাফা করতে পেরেছে। তবে অতীতে উত্থান-পতনের জন্য পরিচিত এই খাতে এবার প্রধান তেল কোম্পানিগুলো চরম আয়ের বছরেও নিজেদের ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এলএসইজি তথ্যানুসারে বিপি-র (ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম) তৃতীয় প্রান্তিকের নিট আয় বছরের ভিত্তিতে ১৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। শেভরন, এক্সনমোবিল, শেল, বিপি এবং টোটালএনার্জিজসহ শীর্ষ কোম্পানিগুলোর শোধনাগার মার্জিন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি জায়ান্ট শেল জানিয়েছে, তাদের তৃতীয় প্রান্তিকের রিফাইনিং মার্জিন প্রতি ব্যারেলে রেকর্ড ৪২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে টোটালএনার্জিজ তাদের রিফাইনিং এবং কেমিক্যাল ব্যবসা থেকে নগদ প্রবাহ দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে চার বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছে। এক্সনমোবিল সংকেত দিয়েছে যে উচ্চ রিফাইনিং মার্জিন তাদের ডাউনস্ট্রিম মুনাফাকে পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে দিতে পারে।

কোম্পানিগুলোর এই অস্বাভাবিক উপার্জনের সময় বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণ করছেন তারা তাদের বর্তমান ব্যয় পরিকল্পনায় অটল থাকবে নাকি আবার অতিরিক্ত খরচের প্রবণতায় ফিরে যাবে। আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক বিরাজ বরখাটারিয়া জানান, তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল প্রকাশের সময় মূল প্রশ্ন দাঁড়াবে কোম্পানিগুলো তাদের অতিরিক্ত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবে। এ পর্যন্ত এক্সন ও শেভরন অর্জিত বাড়তি অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছে। শেভরনের বিনিয়োগকারীরা লক্ষ্য রাখছেন ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ এবং কাজাখস্তানের বৃহত্তম তেলক্ষেত্র টিসিও যৌথ উদ্যোগে চুক্তি সম্প্রসারণের অগ্রগতির দিকে। এইচএসবিসি ধারণা করছে, শেভরন বা শেলের মতো কোম্পানিগুলো তাদের শেয়ার বাইব্যাক বাড়াতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শেল বছরের শুরুতে ৩ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা তাদের প্রান্তিকভিত্তিক বাইব্যাক কর্মসূচি চতুর্থ প্রান্তিকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে পারে।

বিপি-র ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ট্রেডিং আপডেটের পর বিনিয়োগ ব্যাংক টিপিএইচ একে ইউরোপীয় তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রিয় হিসেবে অভিহিত করেছে। ব্যাংকটির মতে, শোধন এবং গ্যাস মার্কেটিং ও ট্রেডিং থেকে অর্জিত আয়ে বিপি-র মূল মুনাফা ৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৫.৭ বিলিয়ন ডলার। এই উপার্জনের অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি তাদের ব্যালেন্স শিট পুনর্গঠন ও ঋণ পরিশোধ করছে। সিটির উপাত্ত দেখাচ্ছে যে, ২০২৫ সালের শেষে বিপি-র নিট ঋণ ও অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোর অনুপাত ছিল ১.৭ গুণ, যা পাঁচ বড় প্রডিউসারের মধ্যে সর্বোচ্চ হলেও তৃতীয় প্রান্তিক নাগাদ তা কমে ০.৮ গুণে নেমে আসতে পারে। কোম্পানিটি আগামী ১৫ ডিসেম্বরের কৌশলগত আপডেটে তাদের ভবিষ্যতের মূলধন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এইচএসবিসি-র কিম ফাস্টিয়ার এবং সদনান আলীর মতে, বিপি-র মূল অগ্রাধিকার থাকবে দেউলিয়াত্ব রোধে ঋণ কমানো, স্থির ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বজায় রাখা এবং ২০২৮ সালের আগে বাইব্যাক না ফেরানো।

সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights