ঈদে ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দ চায়ের দেশ, প্রস্তুতি সম্পন্ন

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

ঈদের ছুটি এলেই শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির কাছে ছুটে যান ভ্রমণপিপাসুরা। চা-বাগান, পাহাড়-টিলা আর সবুজ অরণ্যের রিসোর্ট-কটেজে সময় কাটানো অনেকেরই পছন্দ। সেই ধারাবাহিকতায় পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি নিয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল।

এরই মধ্যে প্রায় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে পর্যটন পুলিশ। পর্যটকদের চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে চাঁদের গাড়ি (জিপ)। পাশাপাশি রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে জোরেশোরে চলছে বুকিং কার্যক্রম।

বিভিন্ন রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগ থেকেই তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ শুরু করেছেন; যা এখন শেষ পর্যায়ে। কেউ রং করাছেন। কেউ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করছেন। কেউ করাছেন সাজ-সজ্জার কাজ। খাবার রেস্টুরেন্টগুলোতে যুক্ত করছেন নতুন নতুন মেনু। পাশাপাশি হোটেল-রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে ঘোষণা করা হয়েছে আকর্ষণীয় অফার।

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে আগামী ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ রুম বুকিং হয়ে গেছে। তবে শহরের হোটেলগুলোতে বুকিং হয়েছে ৪০-৫০ শতাংশ রুম।

চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের মালিক তাপস দাশ বলেন, ‘রেস্টুরেন্টে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ করেছি। বাংলা চায়নিজ ও থাই খাবারের সঙ্গে এবার আদিবাসী খাবারের আয়োজন রেখেছি।’

অরণ্যের দিনরাত্রি রিসোর্টের মালিক কুমকুম হাবিবা বলেন, ‘আমরা রিসোর্ট সুন্দরভাবে সাজিয়েছি। আগামী ২২ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে।’

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, ‘ঈদের সময়ে সাধারণত বিদেশি পর্যটক খুব একটা আসেন না; তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা বেশি থাকেন। বর্তমানে আমাদের বুকিং প্রায় শতভাগ হয়ে গেছে।’

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ‘ঈদের একদিন পর থেকেই পর্যটকরা আসতে শুরু করেন। এবারও ভালো পর্যটক সমাগমের আশা করছি।’

টুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ওসি মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক টহল দল থাকবে। জেলা পুলিশের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

শ্রীমঙ্গলে রয়েছে, চা বাগান, হাইল হাওর, চা কন্যার ভাস্কর্য, রমেশ রাম গৌড়ের সাত রঙের চা, বধ্যভূমি ৭১, বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র, রাবার বাগান, গোলটিলা, হাজমটিলা, লালটিলা, বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, খাসিয়া পুঞ্জি, মনিপুরী সম্প্রদায়ের তাঁতশিল্প, গারো পল্লি, ভাড়াউড়া লেক, শংকর টিলাসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। পর্যটকরা প্রকৃতির কাছে থেকে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights