উৎপাদন উদ্বৃত্ত হলেও দিনাজপুরে চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি: বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

আমনের ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুত থাকার পরেও দিনাজপুরের বাজারে চালের দাম বেড়েছে। ধানের দাম বৃদ্ধি ও বড় ব্যবসায়ীদের প্রভাবকে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন উদ্বৃত্ত এই জেলায় চালের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
দিনাজপুর শহরের সবচেয়ে বড় খুচরা বাজার ‘বাহাদুর বাজার’ ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম ২ থেকে ৪ টাকা এবং সুগন্ধি ও চিকন চালের দাম ১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে বাজারে ব্রি-২৮ ৫৮-৬২ টাকা, ব্রি-২৯ ৫৬-৬০ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকা এবং নাজির শাইল ৭৮-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে জিরা কাঠারী ১১৫-১৩০ টাকা এবং সিদ্ধ কাঠারী ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতাদের মতে, ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক। দাম বাড়ার ফলে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষেরা দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। খুচরা ব্যবসায়ী প্রদ্যুত কুমার রায় জানান, পাইকারি আড়ত থেকে প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বাড়তি দামে চাল কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। অন্যদিকে, আড়তদারদের দাবি বড় অটো রাইস মিল ও করপোরেট কোম্পানিগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণ করায় স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।
চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে ধানের বাজারমূল্যকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন মিলাররা। মিলার-চালকল মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইকবাল চৌধুরী বলেন, ধানের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চালের দাম নির্ধারিত হয়। তবে তিনি একটি ভিন্ন সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে জানান, লাইসেন্সবিহীন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ধান ও চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। খাদ্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালালে বাজার স্থিতিশীল হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরীর দেওয়া তথ্যমতে, দিনাজপুর জেলায় বছরে চালের চাহিদা ৭ লাখ মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হয় প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন। ৯ লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত চাল জাতীয় খাদ্য ভাণ্ডারে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে জেলায় ২৯০টি অটো রাইস মিল এবং ১,২১০টি হাসকিং মিলের মাধ্যমে চাল উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।
বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারির কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে এর কার্যকর সুফল এখনো মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights