এবারও কি ইয়ামাল চমকে এমবাপ্পের স্বপ্নভঙ্গ হবে?
অনলাইন ডেস্ক
ডালাসের ঐতিহাসিক মাঠে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। একদিকে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের লক্ষ্য টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠা, অন্যদিকে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সামনে সুযোগ রয়েছে একই সাথে ইউরো ও বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের ঘরে তোলার অনন্য কীর্তি গড়ার। তবে দলগত লড়াই ছাপিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের সমস্ত নজর এখন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং বার্সেলোনার লামিন ইয়ামালের দ্বৈরথের দিকে।
২০১৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা ঘোষণা করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ঠিক আট বছর পর, এবার আরও এক কিশোর তুর্কির সামনে সুযোগ এসেছে এমবাপ্পের মতোই বিশ্বমঞ্চে নিজের রাজত্ব কায়েম করার। তিনি স্পেনের নতুন বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল।
বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বিধ্বংসী ফরোয়ার্ড ধরা হয় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রথম মৌসুমেই ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। চলতি বিশ্বকাপেও তিনি আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে ৮ গোল করে এখন পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন তিনি। জিনেদিন জিদান কিংবা মিশেল প্লাতিনির মতো কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হিসেবে এমবাপ্পেই হতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার; এমনটাই মনে করছেন ফরাসি ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় দলের হয়ে অলিভিয়ে জিরুকে ছাড়িয়ে ইতোমধ্যে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হওয়া এমবাপ্পের মূল লক্ষ্য এখন কিংবদন্তি পেলের তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করা। মাদ্রিদের হয়ে ট্রফিহীন মৌসুম কাটানোর পর এই বিশ্বকাপে তিনি নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করতে মরিয়া। পিচে আগের চেয়ে অনেক বেশি রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন করছেন এবং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২৭ বছর বয়সী এই অধিনায়ক।
গত সোমবারই মাত্র ১৯ বছরে পা রাখা লামিন ইয়ামালকে ভাবা হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের আগামী ১৫-২০ বছরের ভবিষ্যৎ। গত বছর ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করতে অসাধারণ ভূমিকা রাখা ইয়ামাল হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কিছুটা শান্ত থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। স্প্যানিশ কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য ইয়ামালকে চাপমুক্ত থেকে খেলা উপভোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বড় ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার জন্যই ইয়ামাল প্রস্তুত হচ্ছেন।
কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজের মতে, এত কম বয়সে ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করার এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতা কেবল মেসি, ম্যারাডোনা বা পেলের মতোই কিংবদন্তিদের মাঝে দেখা যেত। স্পেনের বর্তমান দলীয় ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল কৌশলে ইয়ামালই হচ্ছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলার মূল চাবিকাঠি।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে এই আসরে এমবাপ্পে গোল ও অ্যাসিস্টে অনেক এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে ইয়ামাল বরাবরই ফরাসি তারকার জন্য এক কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। গত ইউরো সেমিফাইনালে ইয়ামালের দর্শনীয় গোলেই ফ্রান্সকে বিদায় করেছিল স্পেন। এমনকি ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তাদের বিগত ১০টি মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্যে ৮ বারই জয়ের হাসি হেসেছেন ইয়ামাল। যদিও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে এমবাপ্পে গোল করেছেন ৯টি এবং ইয়ামালের গোল সংখ্যা ৬।
আজ ডালাসের সবুজ গালিচায় কে শেষ হাসি হাসবেন, অভিজ্ঞ এমবাপ্পে নাকি তরুণের প্রতীক ইয়ামাল? এই মহারণের বিজয়ী দলই আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ফাইনালে ট্রফি জয়ের ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে।
সূত্র: বিবিসি
