এবিজি স্পোর্টস সিটিতে তারুণ্যের উৎসব

ইকরামউজ্জমান

আজ থেকে প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত তারুণ্যের উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এবিজি স্পোর্টস সিটিতে। আনন্দঘন বর্ণিল এই উৎসবকে বরণ করে নেওয়ার জন্য ঢাকার ১০টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের (আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি) ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এক পক্ষকালের বেশি সময় ধরে যে ধরনের আবেগের বহিঃপ্রকাশ, উত্তেজনা ও বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি লক্ষণীয় হয়েছে, আজ তা নতুন মাত্রা হবে।

এবার শুরু ফ্লাডলাইটের উজ্জ্বল আলোতে ফুটবল ও ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভেন্যু যথাক্রমে কিংস অ্যারেনা ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দুটি খেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াই প্রথমবারের মতো ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ জয়ের মাধ্যমে ঘরে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা। ‘প্রাইজ মানি’ দুটি খেলা মিলিয়ে ৩০ লাখ টাকা। শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে সব ফ্যাকালটি মেম্বারের কাছে প্রাইজমানির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চমৎকার ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার সুযোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বৃহত্তর ক্রীড়াঙ্গনে উজ্জ্বল করার হাতছানি।

এবিজি স্পোর্টস সিটিতে তারুণ্যের উৎসবসবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে ‘ক্রীড়াবিমুখতা’—এই কথার ভিত্তি যে দুর্বল এবং পুরোপুরি সঠিক নয়, এটি আবারও প্রমাণিত হলো এবিজি গ্রুপ কর্তৃক আয়োজিত এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ মাঠে গড়ানোর আগেই।

কয়টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আছে? তাহলে অবসরে তাঁরা কী করবেন? খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদ ভর্তি করা তো সব কিছু নয়। খেলার আয়োজন কোথায়?

লিখতে বসে যে বিষয়টি আমাকে নাড়া দিয়েছে, সেটি হলো ১০টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের (ক্রিকেট ও ফুটবল) স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পাশাপাশি টুর্নামেন্ট দুটি ঘিরে প্রবল উৎসাহ এবং আস্থা প্রদর্শন খেলার ভেন্যুতে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে একত্র হয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্যবোধ এবং চমৎকার সম্পর্কোন্নয়ন ঘটাবে। এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রফি জয়ের চেয়েও অনেক বড় বিষয়। জানানো হয়েছে, এই দুটি প্রতিযোগিতায় ভবিষ্যতে আরো অনেক বেশি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্যও ফুটবলে ফুটসাল কম্পিটিশনের আয়োজন করা হবে। প্রতিযোগিতা বড় হওয়া মানেই তো ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আরেকটি সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাওয়া।

আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এই টুর্নামেন্ট দুটি শুরু করতে যাচ্ছে। গ্রুপ চাচ্ছে দেশে খেলার চর্চার ব্যাপক প্রসার এবং তার মানোন্নয়নে অংশীদার হিসেবে অবদান রাখতে। জীবনকে পড়তে পেরেছে বলেই সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজন শুধু সুস্থ-সবল তরুণসমাজ গঠনের জন্য নয়, তাদের সম্ভাবনা এবং সামর্থ্যকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তারুণ্যের শক্তি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর সব সময়ই তারুণ্যের পক্ষে। তিনি তাদের নিয়ে ভাবেন এবং স্বপ্ন দেখেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গন এখন যে গল্পটির মধ্যে আছে, এই গল্পটি বদলানোর প্রক্রিয়ায় বাস্তবসম্মত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাইছে এবিজি গ্রুপ তাদের এবিজি স্পোর্টস সিটির মাধ্যমে। গ্রুপ বিশ্বাস করে, দেশের স্বপ্নপূরণে সবাই একমত। ব্যক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি। এবিজি স্পোর্টস সিটির কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তরুণসমাজে এর আবেদন বাড়ছে। এবিজি স্পোর্টস সিটি হলো ‘স্টেট অব আর্ট স্পোর্টস ফ্যাসিলিটি’। এটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের নির্ভরযোগ্য স্থান। কার্তিকের শেষ বিকেলে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে গাড়ির অপেক্ষায় ছিলাম—গেটের এক পাশে পার্ক করা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন তরুণ ও তরুণী। তাঁদের কথোপকথন কানে এলো। বলছেন, কিভাবে বদলে যাচ্ছে ক্রীড়াকাঠামো, বদলে যাচ্ছে আবেগ আর চাহিদা। একসময়ে যা আমরা ভাবতে পারিনি, সেটি এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমার মনে হয়েছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এবিজি স্পোর্টস সিটি অল্প সময়ের মধ্যে তরুণসমাজের বড় একটি অংশকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। এ ধরনের কোনো প্রাইভেট আধুনিক স্পোর্টস সিটি তো দেশে নেই, এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশেও নেই। এটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য গর্ব। ইতিবাচক আলোচনার বিষয়। দেশে ক্রীড়া উৎসাহী উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। ক্রীড়াঙ্গনে কাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ যে অত্যন্ত সার্থক ও ফলপ্রসু, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। দেশে এবং দেশের বাইরে বড় বড় করপোরেট হাউসের নামের সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত, কিন্তু বাংলাদেশে বসুন্ধরা গ্রুপ ছাড়া তো কেউ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের কথা চিন্তা করে এভাবে এগিয়ে আসেনি।

প্রিন্ট মিডিয়ায় দেখেছি এবিজি স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় ‘ক্যাপ্টেনস মিট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ও জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। ফুটবল ও ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেনরা অনুষ্ঠানে কী বলেছেন, সেটি জানি না। তবে বিশ্বাস করি, তাঁদের আগ্রহ ছিল বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন, প্রতিযোগিতা প্রাণবন্ত হবে। তাঁদের বোঝাতে হবে এমন উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া মানেই আয়োজকদের ভবিষ্যতের জন্য আরো বেশি উৎসাহ বৃদ্ধি। আরো বড় আয়োজনের ব্যবস্থা। আরো বড় মিলনমেলার ব্যবস্থা।

এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রীড়াচর্চা আরো সমৃদ্ধ হবে, নতুন প্রতিভা উঠে আসবে এবং একদিন এই মঞ্চ থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করবে এখনকার তরুণরাই।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘এটি শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি তারুণ্যের সঙ্গে তারুণ্যের, স্বপ্নের সঙ্গে সম্ভাবনার এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক সুন্দর মিলনমেলা। তিনি বলেছেন, ‘এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর স্যারের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও আগ্রহেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। তাঁর দিকনির্দেশনায়ই আমাদের এই নতুন উদ্যোগের আত্মপ্রকাশ।’ (কালের কণ্ঠ, ২৩ অক্টোবর ২০২৬)

অতীতে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিটিশনে লক্ষ করেছি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ফুটবলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের বিভিন্ন দলের খেলোয়াড় ছাড়াও অন্য লীগের খেলোয়াড়রা অংশ নিয়েছেন। এতে টুর্নামেন্ট জমজমাট হয়েছে। এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে বিভিন্ন দলের হয়ে জাতীয় দল ও বিভিন্ন ক্লাবের অনেক খেলোয়াড় অংশ নেবেন বলেই মনে করি। এতে প্রতিটি খেলা হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

লেখক: কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights