এবিজি স্পোর্টস সিটির অন্যরকম দিন
রাশেদুর রহমান
এবিজি স্পোর্টস সিটিতে কত উৎসবই না হয়েছে। ফুটবল, ক্রিকেট, বক্সিংসহ আরও নানা আয়োজনে এখানে দর্শকরা মুগ্ধ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক উৎসবও দেখেছেন। তবে আজ এক অন্যরকম আয়োজনে মেতে উঠতে যাচ্ছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। তারুণ্যের উৎসব। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ও ফুটবল দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ। প্রথম দিনে লড়াই হবে ব্যাটবলের। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বিকাল ৫টায়। দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এই ম্যাচ শুরু হবে রাত ৮টায়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চলছে দারুণ উন্মাদনা। ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামে ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছাড়াও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নিয়েছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। কোন বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন তর্কবিতর্কে। খেলোয়াড় বাছাই করতেও কঠোর পরিশ্রম করেছে দলগুলো। নিজেদের সেরা প্লেয়ারদের নিয়ে দল গঠন করেছে। সবার লক্ষ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
গত বৃহস্পতিবার জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে টুর্নামেন্টের জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান। সেখানে ছিলেন ক্রিকেট ও ফুটবল টিমের ২০ জন অধিনায়ক। তাদের নিয়ে হয়েছে ‘ক্যাপ্টেনস মিট’। রঙিন জার্সি তুলে দেওয়া হয়েছে দলগুলোর হাতে।
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর। জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানেই এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান বলেছেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের অনুপ্রেরণা এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান, এবিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের আন্তরিক ইচ্ছা ও আগ্রহেই আমাদের এ প্রচেষ্টা। তাঁর দিকনির্দেশনাতেই এ নতুন উদ্যোগের সূচনা হয়েছে।’
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনা এরই মধ্যে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম কুড়িয়েছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা এসে প্রসংশা করেছেন আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনা স্বীকৃতি পেয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এশিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএফসির। এই মাঠে খেলেছে অস্ট্রেলিয়া, ফিলিস্তিন আর লেবাননের মতো দল। খেলেছে মালদ্বীপ আর আফগানিস্তানও। এএফসি কাপের ম্যাচও আয়োজন করেছে কিংস অ্যারিনা। বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে এরই মধ্যে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। দেশের খেলাধুলা তো বটেই, বিশ্ব ক্রীড়া আসরগুলোকেও আকর্ষণ করছে এই সিটি। ২০৩১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করার জন্য নতুন এক ক্রিকেট স্টেডিয়ামও গড়ে উঠছে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে। ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন এই স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। বিশ্বকাপ ফুটবলের অংশ হয়েছে বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনা। এই মাঠে খেলে যাওয়ার অস্ট্রেলিয়া দলের ১১ জন ফুটবলার আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলেছেন। এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপেরও অংশ হতে যাচ্ছে এই সিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছেলেরা বিখ্যাত এই মাঠ দুটিতে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের পদচারণে আগামী কয়েক সপ্তাহ মুখরিত হয়ে উঠবে এবিজি স্পোর্টস সিটি। ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপে খেলবে ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ‘বি’ গ্রুপে খেলবে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ফুটবল টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপে খেলবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। দলগুলো প্রস্তুত। মঞ্চও প্রস্তুত। এবার কেবল পর্দা ওঠার অপেক্ষা। আজই শেষ হচ্ছে সেই অপেক্ষার প্রহর।
