এসিতে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়, কারণ কি?

অনলাইন ডেস্ক

নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়ার পরও কি আপনার ত্বক হঠাৎ শুষ্ক, খসখসে বা সংবেদনশীল হয়ে উঠছে? আমরা অনেকেই ভাবি যে ভুল প্রসাধনী ব্যবহার বা আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ত্বক তার আর্দ্রতা হারাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন। আপনার ব্যবহৃত এয়ার কন্ডিশনার (এসি)-ই হতে পারে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান ও মূল কারণ। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন ত্বকের শুষ্কতা কেবল শীতকালের সমস্যা কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরজুড়ে বিশেষ করে তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় এসির ঠান্ডা বাতাসে অবস্থান করা আমাদের ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ত্বকে একটি নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক স্তর থাকে, যা মূলত কোষ, প্রাকৃতিক তেল এবং আর্দ্রতাকারী উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এই স্তরটি ত্বকের ভেতরের পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। কিন্তু এয়ার কন্ডিশনার চালু থাকলে ঘরের অভ্যন্তরীণ বাতাসের সমস্ত আর্দ্রতা শুষে নেয়। ফলে চারপাশের বাতাস মাত্রাতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে। এমন শুষ্ক পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ থাকলে ত্বকের ভেতরের পানি অত্যন্ত দ্রুত বাষ্পীভূত হতে শুরু করে, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ট্রান্সেপিডার্মাল ওয়াটার লস বলা হয়। ক্রমাগত এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে ত্বকের স্বাভাবিক ভেতরের আর্দ্রতা বজায় রাখার ক্ষমতা কমে যায় এবং ত্বক স্বাভাবিক কোমলতা হারিয়ে ফেলে।

অনেক সময় অনেকেই ত্বকের সাধারণ শুষ্কতা এবং পানিশূন্যতার মধ্যে পার্থক্য গুলিয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে তেল উৎপন্ন কম হওয়া হলো সাধারণ শুষ্ক ত্বক, যা মানুষের ত্বকের স্থায়ী ধরন। অন্যদিকে ত্বকে পানির অভাব ঘটলে তাকে পানিশূন্যতা বলা হয়, যা একটি সাময়িক সমস্যা। এর ফলে তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরাও এসির বাতাসে থাকার কারণে ত্বকের পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন। প্রায়শই দেখা যায়, বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে মুখ তৈলাক্ত মনে হলেও ভেতরের চামড়া বেশ টানটান, অস্বস্তিকর ও প্রাণহীন অনুভব হয়। এটি স্পষ্ট নির্দেশ করে যে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার প্রতিবন্ধক স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষ করে যারা দিনের সিংহভাগ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে কাজ করেন, এসি গাড়িতে যাতায়াত করেন এবং রাতেও এসি ঘরে ঘুমান, তারা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি পড়েন। এ ছাড়া যাদের আগে থেকেই সংবেদনশীল ত্বক বা একজিমা রয়েছে, কিংবা যারা ব্রণ দূর করার জন্য শক্তিশালী ওষুধ ও মলম ব্যবহার করছেন, তাদের ত্বকে এসির বাতাস আরও দ্রুত বিরূপ প্রভাব ফেলে। মুখ ধোয়ার পর ত্বক অস্বাভাবিক টানটান লাগা, চেহারার উজ্জ্বলতা হারিয়ে মলিন হয়ে যাওয়া, প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহারের পর ত্বকে জ্বালাপোড়া করা কিংবা ঠোঁট ঘন ঘন ফেটে যাওয়া হলো এসি-জনিত ত্বকের পানিশূন্যতার প্রাথমিক লক্ষণ।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খুব জটিল কোনো রূপচর্চার প্রয়োজন নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু সচেতন পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। ত্বক পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে সবসময় কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত, যা ত্বকের স্বাভাবিক তেল বা আর্দ্রতা পুরোপুরি কেড়ে নেয় না। মুখ ধোয়ার পরপরই, যখন ত্বক সামান্য ভেজা থাকে, ঠিক তখনই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। এটি ত্বকের ভেতরে আর্দ্রতা আটকে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ঠোঁটের ত্বক তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় সেখানে আলাদা যত্ন ও লিপ বাম ব্যবহার করা উচিত। আর ঘরে বা অফিসে থাকলেও রোদ ও জানালার কাচ ভেদ করে আসা ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে প্রতিদিন নিয়ম করে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে যাওয়া চলবে না। আধুনিক জীবনে এসি বর্জন করা অসম্ভব হলেও একটুখানি সচেতনতা এবং সঠিক নিয়মে আর্দ্রতা বজায় রাখার মাধ্যমেই আমাদের ত্বককে যেকোনো শুষ্কতা ও ক্ষতি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights