‘ও হুবহু আমার মতোই’, রুনির চোখে চলতি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় বেলিংহাম

স্পোর্টস ডেস্ক

বর্তমান ফুটবল বিশ্বে কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হালান্ডের মতো তারকারা বিশ্বসেরার তকমা পেলেও, চলমান বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের বিচারে জুড বেলিংহামই এখন পর্যন্ত সেরা খেলোয়াড়। ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ওয়েন রুনি নিজের টকশোতে তরুণ এই ইংলিশ মিডফিল্ডারের ভূয়সী প্রশংসা করে এ মন্তব্য করেছেন।

রুনির মতে, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এই মৌসুমে বেলিংহাম হয়তো তার চেনা ছন্দে ছিলেন না, কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে এই বিশ্বকাপে তিনি যা করে দেখাচ্ছেন, তা এক কথায় অনবদ্য।

চলমান বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ২৩ বছর বয়সী বেলিংহাম। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৬টি ম্যাচ খেলে ৬টি গোল করেছেন তিনি, যা তাকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লিওনেল মেসির ঠিক পেছনেই রেখেছে। নকআউট পর্বে মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পাশাপাশি অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে জেতানোর মতো বড় ম্যাচের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

রুনি মনে করেন, বেলিংহামের খেলার মধ্যে যে শক্তি, আবেগ, আকাঙ্ক্ষা এবং তাড়না রয়েছে, তা আজকের যুগের শীর্ষ ফুটবলারদের মধ্যে মেলা ভার। অধিকাংশ বড় তারকা যেখানে কেবল নিজেদের টেকনিকের ওপর ভরসা করেন, সেখানে বেলিংহামের দলের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়ে যাওয়ার মানসিকতা সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি ইংলিশ সমর্থকদেরও দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।

আকর্ষণীয়ভাবে, বেলিংহামের খেলার ধরন রুনিকে তার নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সাবেক এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা জানান, বেলিংহামকে মাঠে দেখলে তার মনে হয় এক মুহূর্তের ব্যবধানে সে যেমন জিনিয়াসের মতো খেলছে, ঠিক তার পরের মুহূর্তেই হয়তো কোনো বিপজ্জনক ট্যাকল করে লাল কার্ড দেখার ঝুঁকিতে পড়ছে। এই আগ্রাসী মনোভাব ও অনমনীয় জেদ রুনির নিজের ক্যারিয়ারেরই প্রতিচ্ছবি। বিশ্বকাপের আগে বেলিংহামের ফর্ম নিয়ে যারা সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, রুনি মনে করেন নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সমালোচকদের মুখ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন এই তরুণ তুর্কি।

আজ বুধবার রাতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে বেলিংহাম কিংবা হ্যারি কেইনের সামনে রয়েছে নতুন এক ইতিহাস গড়ার সুযোগ। আর একটি গোল করলেই তারা এক বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়া গ্যারি লিনেকার এবং ২০১৮ সালের হ্যারি কেইনের ৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে এককভাবে শীর্ষে চলে যাবেন।

রুনি অবশ্য মনে করেন, ইংল্যান্ড যদি এই ম্যাচ জিতে ফাইনালে যায় বা ট্রফি জেতে, তবে অধিনায়ক হ্যারি কেইনই হবেন আসল নায়ক। তার মতে, আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দুই মূল স্তম্ভ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেস বায়ার্ন মিউনিখের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের চতুর মুভমেন্ট ও শারীরিক সক্ষমতার সামনে বড় ধরনের পরীক্ষা ও বিপদে পড়তে পারেন।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights