কনকনে শীতে ফুটপাতে সস্তায় গরম কাপড় খুঁজছেন স্বল্প আয়ের মানুষ
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
কনকনে শীতে কাঁপছে মানিকগঞ্জের সাধারণ মানুষ। শীত নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। পরিবারের সদস্যদের কোনোমতে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করতে অনেকেই ভরসা করছেন ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে বিক্রি হওয়া শীতবস্ত্রের ওপর। তবে এখানেও বাজেটের সঙ্গে মিলছে না প্রয়োজন।
সরেজমিনে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওভারব্রিজের নিচে সারি সারি ভ্যানে বিক্রি হচ্ছে সোয়েটার, চাদর, মোজা, মাফলারসহ বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক। ভিড় করছেন মূলত দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
ঘিওর উপজেলার বাসিন্দা মিরাজ মিয়া বলেন, বাচ্চাদের জন্য সোয়েটার কিনতে পৌর মার্কেটে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুইটা সোয়েটারের দাম এগারোশ টাকার নিচে কেউ দিতে চায় না। আমার বাজেট ছিল আটশ টাকা। শেষে ফুটপাতের ভ্যান থেকে পাঁচশ পঞ্চাশ টাকায় দুইটা সোয়েটার কিনেছি।
তিনি আরও বলেন, করোনার আগে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। চাকরি চলে যাওয়ার পর গ্রামে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা নিলুফা বেগম (৭৭), যিনি একসময় স্কুলে শিক্ষকতা করতেন, বলেন, আগে ফুটপাতে ভালো ভালো বিদেশি সোয়েটার, জ্যাকেট, জাম্পার কম দামে পাওয়া যেত। সেগুলো থাকলে আমাদের মতো মানুষদের এত কষ্ট হতো না।
শীতের কাপড় কিনতে আসা সুফিয়া বেগম (৭৭) আক্ষেপ করে বলেন, আগে কম্বল পাওয়া যেত। এখন আর পাওয়া যায় না। ঠান্ডার সময় না পাইলে গরমে পাইলে কী হবে? এখন পাইলে আর কিনতে হইতো না।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, রাস্তার পাশে ভ্যানে করে ব্যবসা করার সুযোগও নেই। পুলিশ দাঁড়াতে দেয় না। খুব সমস্যার মধ্যে আছি। আমাদের যদি একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বসার ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে গরিব মানুষগুলো বাঁচতাম।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহাসড়কে যানজট নিরসন ও চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ফুটপাত ও রাস্তার পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
