কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেবিস ভ্যাকসিন কেনার টাকা লোপাটের আশঙ্কা দিশেহারা ভুক্তভোগীরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেবিস কুকুর বিড়ালে
কামড়ানো রেবিস ভ্যাকসিন কেনার টাকা নিয়ে চলছে নানা ছলচাতুরি
খেলা। গত দুই মাস আগে প্রাপ্ত দুই লাখ টাকা কোথায় গেল তা নিয়ে
এখন চলছে নানান জল্পনা। এদিকে গত ৩/৪ মাস ধরে হাসপাতালটিতে নেই
রেবিস ভ্যাকসিন। অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবনরক্ষাকারী ওই রেবিস ভ্যাকসিন
না পেয়ে চরম ভোগান্তী পোহাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। বিশেষত অতি প্রয়োজনীয়
জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষোধক রেবিস ভ্যাকসিনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করছেনা।
সরেজমিনে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে গিয়ে জানা যায়,
কয়েক মাস ধরেই হাসপাতালটিতে কুকুর বিড়ালে কামড়ানো রেবিস
ভ্যাকসিন নেই। এটি ক্রয়ের জন্য গত দুই মাস আগে উপজেলা পরিষদের
এডিবির দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পায়। সেখান থেকে ভ্যাট ও খরচ বাদে ১ লাখ ৬৭
হাজার টাকার একটি চেকহাতে পেয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি পর্যন্ত ওই টাকা
দিয়ে ভ্যাকসিন কেনা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, একটি অসাধু চক্র
ভ্যাকসিন কেনার ওই অর্থ লোপাট করতে পারে। যে কারনে ভ্যাকসিন সংকটে
দরিদ্র নিন্ম আয়ের সাধারন মানুষের দূভোগ চরমে পৌঁছেছে।
কুকুর বিড়ালে কামড়ানো জলাতংক রোগের রেবিস ভ্যাকসিন নিতে
হাসপাতালে আসা শহরের পৌর এলাকার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মাটিকাটা
শ্রমিকের স্ত্রী রোমেজা জানায়, তার বয়স্ক শাশুড়ীকে কুকুরে কামড়ানোর পর
একাধিকবার হাসপাতালে গিয়েও ভ্যাকসিন পায়নি। পরে জীবন বাঁচানোর
তাগিদে বাজার থেকে বেশি মূল্য দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য হয়েছেন।
তারমত সাংবাদিক আরিফ মোল্ল্যার মেয়ের জন্য কয়েকবার হাসপাতালে
গিয়েও ভ্যাকসিন পায়নি। এভাবে প্রতিনিয়িত উপজেলার একাধিক
রোগীরা ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবী, ভ্যাকসিন সংকট
দ্রুত সমাধান করা হোক। অন্যথায় জরুরি চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বাইরের
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দন্ড দিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ অরুন কুমার
জলাতংক ভ্যাকসিন সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, আমি এক সপ্তাহ হল
নতুন দ্বায়িত্ব নিয়েছি। আগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দ্বায়িত্বকালে উপজেলা
থেকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য টাকা বরাদ্ধ পেয়েছেন। তবে, ভ্যাকসিন কেনা
না হলেও ওই টাকা গচ্ছিত আছেন বলে জানান তিনি। আর, কারন হিসাবে
মূল্য বেশি হওয়ায় ভ্যাকসিন কেনা হয়নি বলে যোগ করেন তিনি।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, প্রায় দুই
মাস আগে হাসপাতালে ভ্যাকসিন কেনার জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এখনো কেনা হয়নি এটি তার জানা নেয়। আর ওই টাকা কি করা
হয়েছে বা কেন কেনা হয়নি বিষয়টি পরে জানাবেন বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights