কাহারোল বরেন্দ্র অফিসে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ১৭৩ গভীর নলকূপের চাষীরা জিম্মি
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা বরেন্দ্র অফিসে চলছে সীমাহীন অনিয়ম আর লাগামহীন দুর্নীতি। ১৭৩টি গভীর নলকূপের সেবাপ্রার্থী হাজার হাজার চাষীর অভিযোগ সহকারী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার রায় কর্মস্থলে না থেকে প্রতিদিন দিনাজপুর শহর থেকে অফিস-বিলাস করেন। আর তাঁর স্টোর কিপার মাসুদ রানা পাইপলাইন সংযোগের নামে লুটে নিচ্ছেন কৃষকদের কষ্টের টাকা, যা সরকারি ফির প্রায় দ্বিগুণ।
অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার রায় কর্মস্থলে থাকেন না। তিনি প্রতিদিন দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কাহারোল অফিসে আসেন। তাঁর অফিসের গাড়িটি প্রতিদিন দশ মাইল এলাকা থেকে চারবার যাতায়াত করে, যা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে বরেন্দ্র অফিসের তেল বাবদ প্রতিদিন কমপক্ষে এক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, যা সরকারি অর্থের চরম অপচয়।
সহকারী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার রায়ের (ভরসা) তাঁর স্টোর কিপার মাসুদ রানা। কৃষকদের অভিযোগ, এই মাসুদ রানা ১৭৩টি গভীর নলকূপের পাইপলাইন সংযোগ দেওয়ার নাম করে সরকারি ২০ হাজার টাকার স্থলে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় করছেন।
কে-২১ গভীর নলকূপের অপারেটর কাওছার জানান, ৫৯০ মিটার আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপলাইন নির্মাণে উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাসুদ রানা নিয়েছেন ৪০ হাজার টাকা, যেখানে জমা লাগে মাত্র ২০ হাজার টাকা। কে-৯৬ গভীর নলকূপের অপারেটর সোনামিয়ার দাবি, ৫০০ মিটার পাইপ লাইনের জন্য তিনি মাসুদ রানাকে দিয়েছেন ৩৫ হাজার টাকা, অথচ রশিদ পেয়েছেন মাত্র ১৫ হাজার টাকার। কাজীকাটনা গভীর নলকূপের (কে-১৩১) অপারেটর মোশাররফ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ২ হাজার ফুট পাইপ লাইনের জন্য নেওয়া হয়েছে ৪০ হাজার টাকা।
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার রায়ের সঙ্গে তাঁর অফিস কক্ষে কথা হলে তিনি এক চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। দুর্নীতির প্রমাণ চাইলে তিনি বলেন, উৎকোচের প্রমাণ দেন, লিখিত দেন তারপরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
কর্মস্থলে না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, কাহারোল উপজেলা থেকে আমার বাসা ৩০ কি.মি. দূরে অনায়াসে যাতায়াত করা যায়। আমার গাড়ি আমি কোথায় নিয়ে যাব সেটি আমার ব্যাপার। আমি কাকো কোন কৈফিয়ত দিতে আসি নাই। অফিসের অর্থ অপচয় এবং দুর্নীতির বিষয়ে তাঁর আরো বিতর্কিত মন্তব্য, পত্রিকায় লিখে কিছুই হয় না। উপর ওয়ালা ঠিক তো সবই ঠিক।
এলাকার কৃষক ও ১৭৩টি গভীর নলকূপ অপারেটররা একযোগে এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সরকারের উচ্চ মহলের সুদৃষ্টি কামনা করে তাঁরা বলছেন, এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে চাষীরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
