কী হয়েছিল হলান্ডের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

তারকা হলেও বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাকে ঘিরে কোনো আলোচনা ছিল না। অথচ অভিষেক আসরেই যে ঝলক দেখাতে শুরু করলেন, তাতে শুধু সর্বোচ্চ গোলাতার গোল্ডেন বুট নয়, সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বলের পুরস্কার না পেয়ে যান, এ নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়ে যায়। আর্লিং হলান্ডের কথা বলছি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলে আলো ছড়াচ্ছেন। বনে যান ফুটবলের বড় তারকা। বিশ্বকাপে তিনি যে নরওয়ের সেরা তারকা হয়ে যাবেন তা হয়তো কেউ ভাবেননি। নরওয়ের না হলেও তার ছিল এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। প্রতিটি ম্যাচে গোল করে মেসি, এমবাম্পের পাশে হলান্ডের নামও উচ্চারিত হতে থাকে।

আইভরিকোস্টের বিপক্ষে তারই দুরন্ত গোলে টিকে থাকে নরওয়ে। তবে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে রীতিমতো বিশ্ব কাঁপিয়ে দেন। এ জোড়া গোলেই কেঁদে বিদায় নেয় নেইমারের ব্রাজিল। স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা করা হচ্ছিল, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকেও কাঁপিয়ে দেবেন। স্কেলডেরভের গোলে লিডও নিয়েছিল তারা। নরওয়ে সমর্থকরা আশায় ছিলেন, এগিয়ে যখন গেছি তখন হলান্ডের ম্যাজিকেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেব।

কোথায় কী, যিনি ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে ছাড়লেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে খুঁজেই পাওয়া গেল না তাকে। জালে বল পাঠাবেন, তেমন তৎপরতা দেখাও যায়নি তার মধ্যে। কেমন জানি ছন্নছাড়া মনে হচ্ছিল। সুবিধা করতে পারছিলেন না, তাকে তুলেও নেওয়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, ম্যাচে কী এমন ঘটল যে, হলান্ডকে বেহাল অবস্থায় বিদায় নিতে হলো। সতীর্থদের সঙ্গে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছিল কি? কেননা, তাকে সেভাবে বল জোগান দিতেও দেখা যায়নি। মাঠ থেকে উঠে যখন রিজার্ভ বেঞ্চে বসেছিলেন তখন তার চোখে-মুখে বিষণœতার ছাপ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। আসলে কী হয়েছিল ৭ গোল করা হলান্ডের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights