কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার,পরিবারের দাবি হত্যা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের ফারজানা ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফারজানা স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। নাজমুলও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব। এর আগে, শনিবার রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় স্বামীর বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উপপরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পেয়েছি। এ ঘটনায় তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তাঁর স্বামী। গত বছরের ডিসেম্বরে মারধরের শিকার হয়ে তিনি স্বামীর বাসা ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এ ঘটনায় তিনি নারী নির্যাতনের মামলা করেন। পরে নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে নির্যাতন না করার আশ্বাস দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার পর মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফারজানাকে নির্যাতন করা হতো। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ফারজানার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।’

আরিফুল আরও বলেন, ‘নাজমুল প্রথমে বেকার ছিলেন। পরে চাকরি পাওয়ার পর তাঁর অর্থের চাহিদা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে অর্থের জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ফারজানার ওপর নির্যাতনও চলতে থাকে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights