খালের বাঁধ অপসারণ পানি চলাচল স্বাভাবিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) খালের বাঁধ অপসারণ করায় নগরে জমে যাওয়া পানি নেমে গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করার জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলেন। সে অনুযায়ী বাঁধ অপসারণের পর জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। গতকাল সকালে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর জলাবদ্ধতাপ্রবণ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এদিন প্রবর্তক মোড় ছাড়া অন্যান্য এলাকার পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হয়ে যায়। পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হলেও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। আমরা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছি, যাতে নগরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দেওয়া যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে আসবে। মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে গত দুই দিন জলাবদ্ধতার অবস্থা পরিদর্শন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন চট্টগ্রামবাসীর পাশে থাকার জন্য। তিনি আজকে সংসদে চট্টগ্রামবাসীর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমরা আবারও সব জায়গা সরেজমিন পরিদর্শন করছি। কোনো জায়গায় কিন্তু পানির সমস্যা নেই। আগ্রাবাদ, হালিশহর, রামপুরা, জিইসি গিয়েছি। প্রবর্তকের অংশটুকু পানি হচ্ছে। কারণ সব শিট ফাইল এখানে দিয়ে রেখেছে। এখানে যথেষ্ট অবস্ট্রাকশন আছে, এগুলো এখন তাদের উঠিয়ে নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘হিজড়া খাল ও জামালখান খালে প্রায় ৩০টি অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। এগুলো ধীরে ধীরে অপসারণ করা হচ্ছে। শিট ফাইলগুলোও তুলে নেওয়া হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প সড়ক চালু রাখা হয়েছে এবং মেডিকেল কলেজ এলাকার একটি সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে যানজট কমে। পাশাপাশি নগরবাসীকে সাময়িকভাবে এই এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাই।’

সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের পরিচালক ও ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন লেফটেন্যান্ট মো. মহসিনুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘খালের দুই পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে (ডিওয়াটারিং) কাজ করতে হয়। গত কয়েকদিনের অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রবর্তক মোড়সহ কয়েকটি পয়েন্টে পানি জমে গিয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমানে হিজড়া খালের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং খালের সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। প্রবর্তক মোড়ে গতরাতে জমা হওয়া বুক সমান পানি খাল পরিষ্কার করার পর রাত দেড়টার মধ্যেই নেমে যায়।’ তিনি বলেন, ‘পুরো শহরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ১৬টি কুইক রিঅ্যাকশন টিম গঠন করা হয়েছে। তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে জলাবদ্ধ এলাকায় পৌঁছে নালা বা খাল পরিষ্কারের কাজ করবে। এ ছাড়া বর্তমানে ২৯টি এক্সকাভেটর এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়ে বিভিন্ন খালের মাটি অপসারণের কাজ চলমান। গতকাল সকাল ৮টার মধ্যেই খালের সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানির পথ পরিষ্কার করা হয়েছে।’

জানা গেছে, চউকের অধীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড খাল খনন, সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে। কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে সাময়িক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, যা ভারী বর্ষণে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর মধ্যে নগরের হিজড়া খাল, জামালখান খাল এবং মুরাদপুর বক্স কালভার্ট এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী বাঁধ ছিল। ফলে গত মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে কাতালগঞ্জ, চকবাজার, জামালখান, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় জমে যায়। এরপর গত মঙ্গলবার অস্থায়ী বাঁধগুলো অপসারণ করার উদ্যোগ নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights