গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৪ ফিলিস্তিনি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ৪৯৮
অনলাইন ডেস্ক
গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও চারজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। এতে করে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ৪৯৮ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার কাতার ভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৪,৪৯৮ জন নিহত এবং ১,৭৫,৬১৬ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
২০২৪ সালের অক্টোবরে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকেও ইসরায়েলি হামলায় ১,৫৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫,৪৯৮ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। অর্থের অভাবে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাবার কিনে মজুত করতে পারছে না, ফলে বাড়ছে তাদের দুর্ভোগ।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধের ঘোষণায় কয়েক দিনের ব্যবধানে আটা, ডিম, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকার ৫২ বছর বয়সী বাসিন্দা ইসমাইল আল-বারাওয়ি জানান, সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হওয়ার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তিনি বলেন, আগে এক কার্টন ডিমের দাম ছিল ৩৫ ইসরায়েলি শেকেল (প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা)। এখন একই পরিমাণ ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ শেকেল (প্রায় ২ হাজার ৩৯১ থেকে ২ হাজার ৭৯০ টাকা)। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পাঁচ থেকে ছয় শেকেল (প্রায় ২০০ থেকে ২৪০ টাকা) থেকে বেড়ে আট থেকে ১০ শেকেলে (প্রায় ৩১৮ থেকে ৩৯৮ টাকা) দাঁড়িয়েছে। আল-বারাওয়ির ভাষ্য, মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় এখন প্রয়োজনীয় পণ্যও আগের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে তাকে। আগে এক কার্টন ডিম কিনলেও এখন চার-পাঁচটি ডিম কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
