গার্মেন্টসে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে; টিকটকে আসক্ত দ্বিতীয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে টিকটক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী সুমনাকে (৩০) পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী লিমন মল্লিকের (৩৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার (১৫ জুন) রাতে অভিযুক্ত লিমনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত সুমনা লিমনের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে চরদিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

আটক লিমন মল্লিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সময় সুমনার সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০২১ সালে তারা বিয়ে করেন। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে লিমন গ্রামের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি দেখা দিত। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী তাদের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। বর্তমানে লিমন এলাকায় কাঠকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্বজনদের দাবি, সুমনা টিকটকে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য পুরুষদের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো। এই বিরোধের জের ধরেই সোমবার সকালে লিমন সুমনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে লিমন ঘরের দরজা বন্ধ করে বাইরে চলে যান। পরে বিকেল ৫টার দিকে বাড়িতে ফিরে তিনি স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করতে থাকেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রাথমিকভাবে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights