গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় সতর্ক আছে সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কিংবা কেপিআইয়ে হামলা-নাশকতা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা বিষয়ে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। এ বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয় বলে জানিয়েছেন সেনাসদরের কর্নেল-স্টাফ কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান। তিনি বলেন, সচিবালয়ে আগুনের ঘটনার তদন্ত হবে। তদন্ত হলে আগুন লাগার কারণ জানা যাবে। সেখানে সেনাবাহিনী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা করেছে। গতকাল দুপুরে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের’ আওতায় মোতায়েন করা সেনাবাহিনীর কার্যক্রম-সম্পর্কিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা সেনানিবাসের বনানী অফিসার্স মেসে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত এক মাসে ২৮ নভেম্বরের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ২৮টি অবৈধ অস্ত্র এবং ৪২৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তথা সচিবালয়ে নাশকতা কিংবা আগুনের ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, ‘ঘটনাটি মাত্র ঘটেছে। বিস্তারিত তথ্য এখনো আমরা পাইনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী কাজ করছে।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল ইন্তেখাব বলেন, সেনাবাহিনী কত দিন মাঠে দায়িত্ব পালন করবে, সেটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। সরকারের সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনী শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। সরকারের সিদ্ধান্তেই সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাপ নেওয়ার জন্যই সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তবে অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। কক্সবাজারে এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি এই মুহূর্তে নেই। ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর সতর্ক অবস্থায় কাজ করছে। যদি কখনো নিরাপত্তাঝুঁকি আসে তখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে। তা ছাড়া রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো কাজ করছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে অনেক ঘটনা ঘটছে, তবে অবনতি হয়নি। এ ক্ষেত্রে পুলিশসহ অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনশীল রাখতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে (মূলত গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভার এলাকায়) ৬৭টি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে উ™ূ¢ত ১৩বার মূল সড়ক অবরোধ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। শিল্পাঞ্চল ছাড়াও সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিগত এক মাসে ৪৫টি বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। যার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত ঘটনা ছিল ৫টি, সরকারি সংস্থা বা অফিসসংক্রান্ত তিনটি, রাজনৈতিক কোন্দল সাতটি এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ছিল ৩০টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গত ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গীতে ইজতেমার মাঠে অবস্থানকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জামাতের দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ প্রশমন করা। যেখান থেকে পরবর্তী সময়ে সেনাসদস্যরা ৯২ জন শিশু ও ৬৬ জন আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। এ ছাড়া ১৯ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জে রূপালী ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা পুলিশকে প্রত্যক্ষ সহায়তা প্রদান করে। কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই দ্রুত ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কর্নেল ইন্তেখাব বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের সুচিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনী অদ্যাবধি মোট ৩ হাজার ৫৮৯ জনকে দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। যার মধ্যে ৩৬ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights