চাঁদপুরে গৃহবধূ হত্যা, চিরকুটেই মিলল খুনির খোঁজ

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে গৃহবধূ পলি আক্তার (২৮) হত্যার পাঁচ দিনের মধ্যেই আসামি হান্নান মুন্সীকে (৪৪) পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) গ্রেফতার করেছে।

রবিবার দুপুরে চাঁদপুর পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ।

তিনি জানান, একটি চিরকুটের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের জড়িত হান্নান মুন্সীকে তার নিজ বাড়ী থেকে শনিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। হান্নান কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার শ্রীকান্তনি গ্রামের আদম আলীর ছেলে।
রবিবার তার দেয়া তথ্য মতে নিহতের মোবাইল ফোন ও জামা-কাপড় উদ্ধার করা হয়। তারা দুজন পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। তবে হান্নান মুন্সী তার চাচাতো ভাইদের সাথে সম্পত্তি বিরোধ থাকায় পলি আক্তারকে হত্যা করে আসামি বানাতে এই পরিকল্পনা করে।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামের বন্দর থানার ইপিজেড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় দুজনেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করত পলি ও হান্নান। এরইমধ্যে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন পলি (২৮)। বিষয়টি জেনে যায় হান্নান মুন্সির (৪৪) পরিবার। শুরু হয় বিরোধ। ফলে হান্নান ঈদের ছুটিতে পলিকে নিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তার পরিচিত একজনের বাড়িতে ওঠেন। সেখানে পলিকে রেখে ফিরে যায় চট্টগ্রামের কর্মস্থলে।

এমন পরিস্থিতিতে দাউদকান্দির ওই বাড়িতে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পলির গর্ভপাত হয়। তবে সেই বাড়ির সবাই জানতো হান্নানের স্ত্রী পলি। এরইমধ্যে হান্নান ফিরে আসে দাউদকান্দিতে। গত ২ জুলাই মৃত সন্তানসহ পলিকে নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। তারপর বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়ায়। ওই রাতেই চাঁদপুরের মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি এলাকার একটি নির্জনস্থানে নিয়ে এসে অসুস্থ পলিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আর তার সঙ্গে থাকা জামাকাপড় ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি পুকুরে ফেলে রাখে। তবে লাশের পাশে থাকা একটি চিরকুট পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিয়াদ মঈনুদ্দিন জানান, হান্নান মুন্সি তার পরিবারের ওপর প্রতিশোধ নিতে পলিকে হত্যার জন্য তাদের ওপর দায় চাপায়। এমন তথ্য মেলে ওই চিরকুটে। কিন্তু তা ছিল ঘাতক হান্নানেরই হাতে লেখা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযুক্ত হত্যার দায় স্বীকার করায় আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হবে জেলহাজতে।

গত ৫ জুলাই পুলিশ মতলব উত্তরের বাগানবাড়ী সংলগ্ন সালাউদ্দিনের বাড়ির উত্তর পাশ থেকে পলি আক্তার (২৮) এর মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহত পলি আক্তার নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার তাজুল ইসলামের মেয়ে। ঘটনার পরেই তার বড় ভাই ফরহাদ হোসেন সোহাগ (৩২) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights