‘চীনের ওপর নির্ভরতা ইউরোপের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি’, তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ও সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে পোল্যান্ডে আয়োজিত ‌‘ওয়ারশ সিকিউরিটি ফোরাম’-এ দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বেইজিংয়ের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং সংবেদনশীল খাতগুলোতে চীনের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি অ্যাজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে।

ওয়ারশতে আয়োজিত ফোরামে ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের একনায়কতান্ত্রিক মতাদর্শ ইউরোপের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। ফলে বেইজিংয়ের ওপর যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক নির্ভরতা কেবল কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক ঝুঁকি নয়, বরং এটি ইউরোপের নিজস্ব স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হানতে পারে। চীনের সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনের জালে ইউরোপ যদি আটকে পড়ে, তবে তারা তাদের স্বাধীনতার একটি বড় অংশই বিকিয়ে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লিন চিয়া-লুং তাইওয়ানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সখ্য বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান ও ইউরোপ একই ধরনের মূল্যবোধ লালন করে, যার মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, যেভাবে ‘তাইওয়ান মডেল’ যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়ন করেছে, ঠিক একইভাবে এটি ইউরোপের অর্থনীতির চিত্রও বদলে দিতে পারে।

চীনের তীব্র আপত্তি ও কূটনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও গত দুই বছরে লিন চিয়া-লুং একাধিকবার ইউরোপ সফর করেছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে তাইওয়ান ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে তাদের মধ্যকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছে। অপরদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নও চীনের সঙ্গে বিশাল বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা এবং রাশিয়াকে চীনের পরোক্ষ সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে নানা তিক্ততার মুখোমুখি হচ্ছে।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মতো পোল্যান্ডের সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত তাইওয়ান সরকার শুরু থেকেই চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সমান অধিকারের ভিত্তিতে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার অধিকার নিজেদের রয়েছে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা যখন জোরদার করছে, ঠিক তখনই তাইওয়ানের তরফ থেকে এই স্পষ্ট সতর্কবার্তা এলো।

সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights