চোয়াল প্রতিস্থাপনে সফল দেশের চিকিৎসকরা

অনলাইন ডেস্ক

অপারেশনে নেতৃত্ব দেওয়া শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. নিতীশ কৃষ্ণ দাসসহ চিকিৎসকরা। সংগৃহীত ছবি

দেশে প্রথমবারের মতো এক কিশোরের চোয়াল প্রতিস্থাপন হলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পায়ের হাড় দিয়ে পুরো চোয়ালের প্রতিস্থাপন বিশ্বে নজিরবিহীন; যা সম্ভব করেছেন দেশের চিকিৎসকরা।

ওই কিশোরের নাম মো. হারুন। সে এখন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

জানা গেছে, জন্মের তিন মাসের মধ্যে ধরা পড়ে হারুন আর দশটা শিশুর মতো স্বাভাবিক নয়। সেই থেকে যুদ্ধটা শুরু পরিবারের। কয়েক বছর পর লড়াইটা আরও কঠিন করে তোলে হারুনের মুখের টিউমার।
হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরেও মেলেনি হারুনের অস্ত্রোপচারের অনুমতি। অটিস্টিক বলে ছুরি-কাঁচির নিচে নিতে সাহস করেননি অনেক চিকিৎসক।

এদিকে, দিনে দিনে টিউমার ছড়িয়ে পড়ে তার মুখের নিচের চোয়ালের পুরোটা জুড়ে। চার দফা অপারেশনের তারিখ পেয়েও তা ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) গড়ায়নি। তাই যে কোনো শর্তেই অপারেশনে রাজি ছিল হারুনের পরিবার।

ডাক্তারদের অনেক আকুতি-মিনতি করেন হারুনের বাবা। ডাক্তারদের রাজি করাতে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের অটিজমের কারণে ডাক্তাররা অপারেশন করাতে সাহস করছিলেন না। তখন আমি বলেছি অপারেশন করেন। ছেলে যদি বেঁচে থাকে আলহামদুলিল্লাহ, মরে গেলেও আলহামদুলিল্লাহ। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। পরে অপারেশনের প্রস্তুতি শুরু হয়।’

অপারেশনে নেতৃত্ব দেয়া সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. নিতীশ কৃষ্ণ দাস বলেন, অটিস্টিক পেশেন্টের এমন অপারেশন খুবই জটিল। আর যদি তা হয় চোয়ালের অপারেশন তাহলে জটিলতা আরও বাড়ে। চোয়ালে লাগানোর জন্য হারুনের যে পায়ের হাড়টা নেওয়া হয়, সেই পায়ের রক্তনালিটাও নিই। পরে তা পেশেন্টের চোয়ালে শেপে আনতে টুকরো টুকরো করা হয়। এরপর রক্তনালির জোড়া দিয়েছি। জটিল এ অপারেশনটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে তা শেষ হওয়ায় ভালো লাগছে। পেশেন্টকে এখন নরম খাবার খেতে দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হলে তার মাড়িতে কৃত্রিম দাঁত সংযোজন কররা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights