ছাদখোলা গাড়িতে বরের বেশে ফিরলেন সাধন স্যার
কুমিল্লা প্রতিনিধি
সকাল থেকে ব্যস্ততা সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিদ্যালয় মাঠে প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে। রং-বেরঙের ফুলে সাজানো মঞ্চে বসে আছেন একজন ব্যক্তি। তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার প্রজাপতি ডি. এল. উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক সাধন চন্দ্র দেবনাথ।
তাকে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা জানাতে উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ফুল সাজানো ছাদ খোলা গাড়িতে বিদায় জানানো হচ্ছে প্রিয় স্যারকে। সেই গাড়ির পাশে হেঁটে চলেছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতি মাড়িয়ে বিদায় দিচ্ছেন তারা। বিদায় বেলায় শিক্ষককে সম্মান জানাতে পেরে আনন্দিত তারা। বিদায়ের এই উৎসবমুখর আয়োজনে খুশি বিদায়ী শিক্ষক সাধন চন্দ্র দেবনাথ।
১৯৯১ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন সাধন চন্দ্র দেবনাথ। ৩৫ বছর শিক্ষকতা শেষে শনিবার বিদায় নেন এই জাতি গড়ার কারিগর। প্রজাপতি ডি. এল. উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদ আখন্দ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম । বিশেষ অতিথি ছিলেন বড় শালঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আ. আউয়াল সরকার।
শিক্ষক সাধন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, কখনও ভাবিনি এমন রাজকীয় আয়োজনে আমাকে বিদায় জানানো হবে। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে সবার এই অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে, এর চেয়ে বড় পাওনা আর কিছু হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, আমি ১৯৯২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিই। একই বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩৫বছর শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছি। বিদায়বেলায় সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দেওয়া এই ভালোবাসা ও সম্মান আমার জীবনের সর্বোচ্চ উপহার।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষকরা, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিদায়বেলায় সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের এমন ভালোবাসা ও সম্মানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী এই শিক্ষক। এ সময় বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষকের হাতে নগদ অর্থসহ নানা উপহার তুলে দেন।
উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক কবির আহমেদ চৌধুরী, সিনিয়র মো. ইউনুস ভূঁইয়া,সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সরকার,মো. মোর্শেদ আলম মেম্বার, সাবেক অভিভাবক সদস্য মো. মমিনুল ইসলাম সরকার, সাবেক অভিভাবক সদস্য, আঃ রহিম সরকার, সাবেক অভিভাবক সদস্য হাজী শহিদুল ইসলাম, সাবেক অভিভাবক হাজী জসিম উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
