জবি শিক্ষার্থী মিজান ইরাসমাস মুন্ডাস বৃত্তি পেয়েছেন

রাকিব মাজহার, জবি প্রতিনিধি:

ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও জনপ্রিয় ইরাসমাস মুন্ডাস বৃত্তি পেয়ে মাস্টার্সের জন্য ফ্রান্স যাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মো. আব্দুল আলিম মিজান। তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এই বৃত্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিউশন ফি, হেল্থ ইনসুরেন্সের ও মাসিক ১৪০০ ইউরো স্টাইপেন্ড পাবেন তিনি। সম্পূরক এই বৃত্তিতে প্রথমে ফ্রান্স, ইতালি এবং সর্বশেষ স্লোভেনিয়াতে ‘ন্যানোম্যাটেরিয়ালস ফর গ্রিন অ্যান্ড ডিজিটাল ট্রানজিশন (গ্রিন্যানো) প্রোগ্রামে মাস্টার্স সম্পন্ন করবেন তিনি।

মো. আব্দুল আলিম মিজান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে (বিএসসি) হয়েছেন প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাফল্যের ধারা অব্যাহত। জবি ও রাবির অধীনে Nuclear physics (Atomic and Molecular physics lab) রিসার্চ করছেন।

আবেদনে প্রক্রিয়া সম্পর্কে আব্দুল আলিম বলেন, এই প্রোগ্রামের আওতায় যোগ্যতার ভিত্তিতে আমাদের কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় ইন্টারভিউয়ের জন্য এরপর সেখান থেকে ২৪ জনকে তারা চূড়ান্তভাবে বাছাই করে। ইন্টারভিউয়ে আমার সিভি, এসওপি ও যে বিষয়গুলো তারা দক্ষতা চায় যেমন কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সে, ম্যাটারিয়াল সায়েন্সের বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন করে। আমার প্রিপারেশন ছিলো আগে থেকে মূলত বড় ভাইদের থেকে বা বাংলাদেশের যারা ছিলো তাদের থেকে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা শুনেছি। আমার ইন্টারভিউ ছিলো ১২-১৪ মিনিটের এবং ইন্টারভিউ শেষে আমাকে বলা হয় সাত দিনের মধ্যে আমাকে তারা জানাবেন। একদিন পরেই মেইল আসে আমি সিলেক্টেড হয়েছি।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে মিজান বলেন, যখন অনার্স শেষ করি মাস্টার্সে থাকাকালীন সময়ে আমার অনেক চিন্তা হতো ভবিষ্যতে কি করবো তা নিয়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে যদি দেখেন আমার সাবজেক্ট রিলেটেড জব সেক্টরগুলো অনেক কম এবং প্রতিযোগিতা বেশি। ফলে ক্যারিয়ার নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ছিলো সেইটা থেকে এখন মুক্ত আছি। ভবিষ্যতে আমি একজন উচ্চমানের গবেষক হতে চাই এবং আমি মনে করি ইরাসমাস মান্ডাস স্কলারশিপ প্রোগ্রাম আমাকে উচ্চমানের গবেষক হতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

আগ্রহের বিষয় নিয়ে তিনি বলেন; আমার আগ্রহের জায়গাগুলো হলো ইলেক্ট্রনিকস, ম্যাটারিয়াল সায়েন্স ও সলিডিস্ট্রিক ফিজিক্স রিলেটেড ফিল্ড।

তিনি আরও বলেন, আমার এই জার্নিতে পরিবারের সাপোর্ট সবচেয়ে বেশি ছিল। এই অর্জনের পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল আমার বড় বোন ডা: শাহনাজ পারভীন স্মৃতি। তিনি সার্বক্ষণিক আমাকে গাইড করতেন। থিসিস সুপারভাইজার ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ স্যার, ড. আঞ্জু মানে আরা উর্মি ম্যাম, এবং ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র মৌসুমি আপু, এবং অভি ও আমির ভাইদের অবদান অনস্বীকার্য।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্স ও জয়েন্ট মাস্টার্সে পড়াশোনার সুযোগ দেয় ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ। ১৯৮৭ সালে শুরু হয়ে এটি বিগত ৩০ বছরে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং সম্মানজনক শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই বছর বাংলাদেশ ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে সারা বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights