জবিতে সাগীর আহমেদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শহীদ সাগীর আহমেদের ২১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাগীর আহমেদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, অবদান ও আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফীন। আলোচনা সভায় শহীদ সাগীর আহমেদকে স্মরণ করে শেষে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, শহীদ সাগীর আহমেদ ছিলেন সাহস, ত্যাগ ও আদর্শের প্রতীক। ছাত্র রাজনীতিতে তাঁর সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সাগীর আহমেদ ছিলেন কর্মীবান্ধব ও সহযোগিতাপরায়ণ নেতা। তাঁর পরিবারের প্রতি সংগঠনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, নব্বইয়ের দশকে জাতীয়তাবাদী শক্তির অন্যতম সাহসী কর্মী ছিলেন শহীদ সাগীর আহমেদ। দলের দুর্দিনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং তাঁর সাহস, বীরত্ব ও আপসহীন মানসিকতা জাতীয়তাবাদী আদর্শের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
উপাচার্য আরও বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পরও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ সাগীর আহমেদের স্মরণে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করা না হওয়া দুঃখজনক। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। তিনি বলেন, ছাত্রদলের রাজনীতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। শহীদ সাগীর আহমেদসহ তৎকালীন নেতারা পুরান ঢাকার রাজনীতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয়তাবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাগীর আহমেদের হত্যার বিচার প্রকৃতিগতভাবেই হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাগীর আহমেদ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও শহীদ সাগীর আহমেদের সহধর্মিনী নাসিমা আক্তার রুমী। সভাপতির বক্তব্যে নাসিমা আক্তার রুমী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শহীদ সাগীর আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন এবং তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
___________________
