ভাতের হোটেল চালানো আজাহার যেভাবে সবার বন্ধু হলেন

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ নিজের হোটেলে বসে আছেন আজাহার ইসলাম। সম্প্রতি দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় আজাহার ইসলাম বলেন, ১৯৭৯ সালের কথা। হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় তখন কৃষি কলেজ ছিল। সেখানে ১৯৮৬ সালে চায়ের দোকান শুরু করেন তিনি। তাঁর বাড়ি দিনাজপুর শহরের জামাইপাড়া এলাকায়। তবে সেই বাড়ি এখন বড় ভাইয়ের দখলে। স্ত্রী, তিন সন্তান ও পূত্রবধূদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভাড়া বাড়িতে থাকেন তিনি।

আজাহার ইসলাম জানান, কয়েক বছর আগেও তিন বেলা দোকানে কয়েক পদের মাছ, মাংস, ডিম, কলিজা, মুরগি, নানা পদের শাক-ভর্তা বিক্রি করতেন। এখন শুধু দুপুর আর রাতে বিক্রি করেন। খাবারের পদও কমে গেছে। দৈনিক ২০-২৫ হাজার টাকা বিক্রি হতো, এখন ৫-৬ হাজার টাকাই বিক্রি হয় না। তাঁর ভাষায়, ‘দোকানের হিসাব খুঁজি পাইলাম না। ৪০ বছর হয়ে গেল, কোনো আয়–উন্নতি করার পারি নাই। ঘুমানোর জায়গাটাও নাই।’

পাশেই বসা এক শিক্ষার্থী তখন বলেন, লাভ খুঁজি পাবেন না তো বন্ধু। কেউ আছে মাসের প্রথমে এক হাজার টাকা জমা দেন। তারপর সারা মাস খাওয়া চলে। কেউ একই দাম দিয়ে তিনবার তরকারি নেন। খাতায় শিক্ষার্থীরাই যে যাঁর মতো হিসাব রাখেন। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন ভিক্ষুককেও বন্ধু বিনা টাকায় খাওয়ান। আশপাশের হোটেলগুলোর চাইতে এখানে প্রতি পদ অন্তত ৫-১০ টাকা কম। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ খেয়ে আবার ৫-২০ টাকা কম দেন। শুধু একটু কায়দা করে কষ্টের কথা বলতে পারলে টাকাই নেন না বন্ধু। প্রত্যেককে দৈনিক ১০০ টাকা মজুরি দেন। কোনো দিন সেটাও দিতে পারেন না আজাহার ইসলাম, ভাতের হোটেল মালিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights