জাতিসংঘ ভাষণে ‘এআই’-এর নাম পাল্টে যা রাখলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার কোনও ‘বিশ্বায়নবাদী পরিকল্পনা’ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।

ট্রাম্প এআইকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘অতি-বুদ্ধিমত্তা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, ‘আর্টিফিসিয়াল’ বা কৃত্রিম শব্দটি ব্যবহারের কারণে এই প্রযুক্তির প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বায়নবাদী পরিকল্পনা’ অনুসরণ করে এআই নিয়ন্ত্রণের যেকোনও প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করবে। এ সময় তিনি এআইয়ের উন্নয়ন সীমিত করার পক্ষে বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন আহ্বানেরও বিপরীত অবস্থান তুলে ধরেন।

‘আর্টিফিসিয়াল’ নয়, ‘সুপার’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আর্টিফিসিয়াল’ শব্দটি বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বা নকল বলে মনে করায়, অথচ তার মতে এআই মোটেই ‘নকল’ নয়।

তিনি বলেন, ‘আর্টিফিসিয়াল’ শব্দটি ব্যবহার করলে বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বলে মনে হয়। কিন্তু এটি কৃত্রিম নয়। এটি আসলে অসাধারণ।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব সরকারি নথিতে ‘আর্টিফিসিয়াল’ শব্দের পরিবর্তে আরও যথাযথ শব্দ হিসেবে ‘সুপার’ ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আর্টিফিসিয়াল’-এর পরিবর্তে আরও সঠিক শব্দ ‘সুপার’ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সব নথি পরিবর্তন করা হবে। এরপর তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা সংক্ষেপে ‘এসআই’ নামে ‘নতুন বিশ্বে’ স্বাগত জানান।

এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক
এআইয়ের দ্রুত বিকাশ ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষ করে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে ভুল তথ্য ছড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে- তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নীতিমালা প্রণয়নের চেষ্টা করছে।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ের উন্নয়নকে কঠোরভাবে সীমিত করার পরিবর্তে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশের পক্ষে অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

ট্রাম্পের ভাষণের মধ্য দিয়ে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও স্পষ্ট হয়েছে- প্রযুক্তিটির বিকাশে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের বদলে মার্কিন নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থান।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এআইকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে অভিহিত করার পাশাপাশি এ প্রযুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও জোরালোভাবে তুলে ধরেন। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights