জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে জেনেটিক বায়ো-কাউন্সেলিং সেবা
গাজীপুর প্রতিনিধি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সুস্থতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ‘ক্যারিয়ার অ্যান্ড ওয়েলবিং সেন্টার’ (সিডব্লিউসি) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বায়োটেডের (ইরড়ঞঊউ) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
শনিবার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) তাইয়েবা তাসনীম সিরাজ এ তথ্য জানান।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অবকাঠামো ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ, বাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ এবং চাকরির সুযোগ তৈরিতে কাজ করবে সেন্টারটি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক রাজ বিন কাসেম উপস্থিত ছিলেন।
বায়োটেডের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ শওগাতুল ইসলাম। এ সময় জেনএক্স হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুনিয়া আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, সেন্টারটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী গোপনীয় জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাউন্সেলিং সেবা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব সেবার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।
শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে চারটি বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো হলো ডিজিটাল সেবা, ব্যবসা ও অর্থায়নসংক্রান্ত কার্যক্রম, ইংরেজি ও কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ, কেয়ার ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা। এসব প্রশিক্ষণ প্রচলিত শিক্ষাক্রমের পরিপূরক হিসেবে পরিচালিত হবে।
চাকরির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, ব্যবহারিক কাজ এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরিতে কাজ করবে সেন্টারটি। ডিগ্রি শেষ করার আগেই শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ বা বাস্তবভিত্তিক প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও চাকরির সুপারিশের ব্যবস্থাও থাকবে। নারী স্নাতকদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁদের জন্য পৃথক কর্মসংস্থান সহায়তা ডেস্ক, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
