জার্মানির সাড়ে ৭ কিলোমিটার পতাকা বানালেন আমজাদ
মাগুরা প্রতিনিধি
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই আলোচনায় আসেন মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন (৭৪)। জার্মান ফুটবল দলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে তিনি প্রতি বিশ্বকাপে তৈরি করেন বিশাল আকৃতির জার্মানির পতাকা। প্রায় দুই যুগ ধরে চলা ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে আমজাদ হোসেন তৈরি করেছেন সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা। গতকাল মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়। মাগুরা পৌরসভার ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদের পতাকা তৈরির গল্প এখন শুধু মাগুরা নয়, দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমী মানুষ জানেন। আমজাদ হোসেনের পতাকা তৈরির যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। সেই বছর জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি প্রায় ৩৫০ গজ দীর্ঘ জার্মান পতাকা তৈরি করেন। এরপর ২০১০ সালে আড়াই কিলোমিটার, ২০১৪ সালে সাড়ে ৩ কিলোমিটার, ২০১৮ সালে সাড়ে ৫ কিলোমিটার ও ২০২২ সালে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেন।
আমজাদ হোসেন জানান, ২০০৪-২০০৫ সালের দিকে তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণ করেও তেমন উপকার পাচ্ছিলেন না। পরে তিনি এক চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানিতে তৈরি হোমিওপ্যাথি ওষুধ সেবন করে সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই জার্মানির প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ জন্ম নেয়। কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও জার্মান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে পতাকা তৈরি শুরু করেন। তবে এ ভালোবাসার পথ সব সময় সহজ ছিল না। পতাকা তৈরির জন্য তাকে অনেক আর্থিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে পরিবারের অধিকাংশ সদস্য তার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন আমজাদ। পতাকা তৈরির খরচ জোগাতে তিনি ৩০ শতক জমি বিক্রি করেন। ওই বছরের পতাকা তৈরিতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। পরে জার্মানি বিশ্বকাপ জেতায় গরু জবাই করে মেজবানেরও আয়োজন করেছিলেন।
আমজাদের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাগুরায় এসে তার তৈরি পতাকার উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং জার্মান ফুটবল দলের ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালেও জার্মান দূতাবাসের কর্মকর্তারা তার পতাকা প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তবে এবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নতুন পতাকা প্রদর্শন করা হয়েছে।
আমজাদ হোসেন বলেন, আমি ভালোবাসা থেকেই এসব করি। কখনো কারও কাছে সাহায্য চাইনি। এবার আমার সন্তানরাই খরচ দিয়েছে। আমি এ পতাকাটি জার্মান দূতাবাসকে উপহার দিতে চাই।
