জীবনযুদ্ধে সফল হওয়ার প্রত্যয়

অনলাইন ডেস্ক

১২ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর দুই সন্তানকে নিয়ে একাই সংসারের হাল ধরেছেন রুমা। অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু টাকার অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে ছেলের পড়াশোনা।

তিন মাস প্রশিক্ষণ দিয়ে রুমার হাতে একটি সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এই মেশিনটিই এখন রুমার কাছে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। সম্প্রতি রুমার মতো অসচ্ছল নারীসহ ময়মনসিংহের নান্দাইল, গৌরীপুর, নেত্রকোনার বারহাট্টা, সদর ও দুর্গাপুর উপজেলার ২০ জন করে মোট ১০০ নারীর হাতে উঠেছে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন হাতিয়ার। তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের প্রত্যেকের হাতে বসুন্ধরার উপহার হিসেবে একটি করে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

সর্বশেষ আয়োজন ছিল দুর্গাপুর পৌর শহরের কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘর হলরুমে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি মো. জামাল তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং উপদেষ্টা মো. মাসুম বিল্লাহর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত, দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলকাছ উদ্দিন মীর, উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, বসুন্ধরা শুভসংঘের সিনিয়র উপদেষ্টা এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক, নির্মলেন্দু সরকার বাবুল প্রমুখ। প্রতিটি উপজেলার আয়োজনেই স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতেই সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। এই মেশিনে সংসারে সচ্ছলতা আসবে, পায়ের নিচের মাটিটাও শক্ত হবে। বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন পেয়ে অসংখ্য নারী নিজেদের স্বাবলম্বী করেছেন। কেউ একটি মেশিন দিয়ে কাজ শুরু করে পরবর্তী সময়ে আরো ১০টি মেশিন কিনেছেন। সন্তানদের স্কুলে পড়িয়েছেন এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আবার কেউ নিজে আয় করার পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শুধু সেলাই মেশিন বিতরণ নয়, তিন মাসের প্রশিক্ষণে নারীদের দক্ষ করে তোলার পর তাঁদের হাতে কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নারীরা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতেও ভূমিকা রাখতে পারবেন। উপকারভোগীরা মেশিনগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবন বদলে নেবেন এবং অন্য নারীদেরও উৎসাহিত করবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights