জেনারেটর চালিয়ে আলু রক্ষা
কাজী শাহেদ, রাজশাহী
অন্তত তিন বছর আলু চাষ করে বিপাকেই আছেন চাষিরা। বাজারে যে দামে আলু বিক্রি হচ্ছে তাতে খরচ উঠছে না। তার পরও লাভের আশায় সেই আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা রাখছেন হিমাগারে। এবারে সেই লোকসানি আলুর খরচ আরও বাড়াচ্ছে লোডশেডিং। এতে বেকায়দায় পড়েছেন রাজশাহীর হিমাগার মালিকরা। আলু পচন রোধে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর চালাতে হচ্ছে তাঁদের। এতে প্রতি ঘণ্টায় বাড়তি ৮-১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় ৩৯টি হিমাগার আছে। এর মধ্যে ৩৭টি সচল। এসব হিমাগারে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা আছে। তবে এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক হিমাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে রাজনৈতিক নেতাদের চাপে অনেক হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
একদিকে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু, অন্যদিকে লোডশেডিং-দুইয়ে মিলে আলু পচনের ঝুঁকি বাড়ছে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকায় অবস্থিত তামান্না স্পেশাল কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন গাড়ি ভর্তি করে পচা আলু বের করা হচ্ছে। এ হিমাগারে আলু রেখেছিলেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু লোড নেওয়া হয়েছিল। এখন লোডশেডিংয়ের কারণে আলু ঘেমে পচে যাচ্ছে। পচে যাওয়া আলু ফেলে দিতে হচ্ছে।’
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী অভিযোগ করেন, ‘মালিকদের অব্যবস্থাপনার কারণে আলু পচে যাচ্ছে। তাঁরা মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত আলু লোড নিয়েছেন। এ কারণে আলু নষ্ট হচ্ছে।’ সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, ‘ওভারলোডিংয়ের কারণে আলু পচে যাচ্ছে। একটি হিমাগারে বছরে ২৫-৩০ বার আলুর অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এজন্য আলু বের করে বাতাস দেওয়াও প্রয়োজন। এতে খরচ হয়। অতিরিক্ত লোডের কারণে অনেক হিমাগার এবার এ কাজটি করছে না। এ কারণে আলু নষ্ট হচ্ছে।’ তিনি দাবি করেন, আলাইবিদিরপুরে রহমান ব্রাদার্স-১ কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা ১৪-১৫ হাজার টন। অথচ সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তবে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে চাপে পড়ে কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল।’ তবে হিমাগার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। ফজলুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলেও এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগার ঠান্ডা থাকে। কিন্তু এর বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জ্বালানি তেল পুড়িয়ে জেনারেটর চালাতে হয়।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র
জেনারেল ম্যানেজার রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত বুধবার থেকে লোডশেডিং কমে গেছে। এখন পরিস্থিতি ভালো।
