জেনেভায় ইরানি কূটনীতিকের সুইজারল্যান্ডে আশ্রয় চেয়ে আবেদন
অনলাইন ডেস্ক
সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তেজনার মধ্যেই নিরাপত্তার শঙ্কায় জেনেভায় জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদর দপ্তরে কর্মরত একজন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক তার পদ ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন।
কূটনৈতিক সূত্র ইরান ইন্টারন্যাশনালকে জানিয়েছে, জেনেভায় জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিরেজা জেরানি হোকমাবাদ তার কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার পর তার পরিবারের সাথে আশ্রয় চেয়েছিলেন। তিনি কাউন্সিলর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং মন্ত্রীর পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সাথে তিনি জেনেভায় জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় ইরানের মিশনের উপ-প্রধান ছিলেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, জেরানি ইরানে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সাথে সম্পর্কিত সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ভয়ে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শাসন কাঠামোর স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তেহরানে ফিরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের সরকার পক্ষ থেকে এখনো কোনও মন্তব্য করেনি।
২০১৭ সালে জেনেভায় ইরানের মিশনে একজন উপদেষ্টা হিসেবে যোগদান করেন জেরানি। পরবর্তীতে তিনি জাতিসংঘের সাথে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক সংস্থাগুলিতে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করেন। এর মধ্যে বাণিজ্য, উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সম্পর্কিত ফোরামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপীয় নেতাদের এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিবৃতিসহ ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সমর্থন ইউরোপে নিযুক্ত ইরানি কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বেশ কয়েকজন ইরানি কূটনীতিক আশ্রয়ের আবেদন করে ইউরোপীয় দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ইউরোপীয় সূত্র জানিয়েছে,বেশ কয়েকটি সরকার ইরানি কূটনীতিকদের কাছ থেকে আশ্রয়ের আবেদন পর্যালোচনা করছেন। সেই সাথে আশ্রয়ের আবেদনের বিষয়টি সহক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সময় ইরানি কূটনীতিকদের পদত্যাগ নজিরবিহীন নয়। ২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্ট নামে পরিচিত বিক্ষোভের পর, ইউরোপের বেশ কয়েকজন ইরানি কূটনীতিক পদত্যাগ করেন এবং আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ওই সময় নির্বাচনী জালিয়াতি এবং কর্তৃপক্ষের সহিংস দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করে তারা দেশ ত্যাগ করেছিলেন।
সেই সময়ে যারা দেশত্যাগ করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন নরওয়েতে ইরানের কনসাল মোহাম্মদ রেজা হায়দারি, ফিনল্যান্ডের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স, হোসেইন আলিজাদেহ; মিলানে কনসাল, আহমেদ মালেকি, এবং ব্রাসেলসের একজন দূতাবাসের কর্মকর্তা ছিলেন।
