ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে আস্থা ও স্বার্থের সমীকরণ

এম এ আজিজ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, বাণিজ্য বৈষম্য এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গত ৮-৯ অক্টোবর দিল্লিতে দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠকে রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ : প্রত্যর্পণ প্রশ্নে আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও বিচারিক বিষয়। ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, তাঁকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন। বাংলাদেশ বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি। ফলে প্রত্যর্পণের প্রশ্নটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে রয়েছে।

ভারত বলছে প্রত্যর্পণ আইনি বিষয় : ৭ অক্টোবর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে আইনি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসংক্রান্ত বিচারিক নথি বাংলাদেশ পাঠিয়েছে কি না, সে প্রশ্নেও তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। তাঁর বক্তব্যে ভারত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বক্তব্যে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। এই পার্থক্য প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলেই প্রত্যর্পণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয় না। অভিযোগের প্রকৃতি, চুক্তির শর্ত, প্রযোজ্য ব্যতিক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া বিবেচনা করতে হয়। তাই এ বিষয়ে অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ, নথিপত্র এবং আইনি সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। প্রত্যর্পণ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখা সম্ভব।

১২ ডিসেম্বরের আগে গঙ্গার পানিবণ্টন : ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তি সম্পাদনের আশাবাদ জানিয়েছেন। তিনি পুরোনো চুক্তি শুধু নবায়নের পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থায় পানির নিশ্চয়তা ও সুরক্ষামূলক ধারা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ভারত যৌথ নদী কমিশনে আলোচনার পক্ষে : ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশনের কাঠামোয় আলোচনা করা হবে। তিনি কারিগরি পর্যায়ে গঙ্গার চুক্তি নিয়ে বৈঠক অব্যাহত থাকার কথাও বলেছেন। তবে আলোচনা চলা এবং নতুন চুক্তিতে চূড়ান্ত সমঝোতা হওয়া এক বিষয় নয়। ১২ ডিসেম্বরের সময়সীমার আগে কোনো নতুন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও চুক্তির নথি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের জন্য গঙ্গার পানিপ্রবাহ কৃষি, সেচ, মৎস্যসম্পদ, নদীর নাব্য, জীববৈচিত্র্য এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা কমে গেলে কৃষি উৎপাদন ও নদীনির্ভর অর্থনীতিতে চাপ বাড়ে। এ কারণে বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য হলো পানির ন্যায্য হিস্সা নিশ্চিত করে নির্ভরযোগ্য অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। চুক্তিতে সুনির্দিষ্ট শর্ত, তথ্য বিনিময় এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে তা দুই দেশের জন্য কার্যকর হতে পারে।

ঢাকা চায় ১৯৭৭ সালের চুক্তির ন্যায় সুরক্ষা : বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালের পানিবণ্টন ব্যবস্থায় থাকা নিশ্চয়তামূলক ধারার অনুরূপ সুরক্ষা নতুন চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। এ ধরনের ধারার উদ্দেশ্য শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করা। তবে শুধু চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি থাকলেই বাস্তবে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত হয় না। প্রবাহের পরিমাপ, তথ্যের স্বচ্ছতা, যৌথ পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর পদ্ধতিও প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা ছাড়া চুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা মূল্যায়ন কঠিন।

তিস্তা নদীর পানিবণ্টন : তিস্তা নদীর পানিবণ্টনও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দাবি। তবে গঙ্গা ও তিস্তার আলোচনার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এক নয়। তিস্তার ক্ষেত্রে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুই নদীর জন্য পৃথক কূটনৈতিক কৌশল প্রয়োজন। গঙ্গার চুক্তিতে অগ্রগতি ভবিষ্যৎ নদী কূটনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু তা তিস্তার সমস্যার স্বয়ংক্রিয় সমাধান নয়। অভিন্ন নদীগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত ন্যায্য ও টেকসই পানিবণ্টন ব্যবস্থা।

ভারতের বাণিজ্য বাধা প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ : ৮-৯ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বাংলাদেশ ভারতীয় স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানির সীমাবদ্ধতা দূর করা, অশুল্ক বাধা কমানো এবং পাটপণ্য ও পলিইথিলিন টেরেফথালেট বা পিইটি ফিল্মের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানায়। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনায় তোলা হয়। বৈঠকে দুই দেশ পণ্য পরিবহন, মান যাচাই এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও মতবিনিময় করে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানি ছিল ১০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে ভারতে রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে আমদানি ছিল ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে আমদানি বেড়েছে, অথচ রপ্তানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান দুই দেশের পণ্যবাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য ভারসাম্যহীনতা তুলে ধরে।

ভারত থেকে বাংলাদেশ তুলা, সুতা, কাপড়, শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন উৎপাদন উপকরণ আমদানি করে। এসব উপকরণ পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত হয়। তাই বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর অর্থ প্রয়োজনীয় আমদানি বন্ধ করা নয়। বরং বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং নতুন বাজার তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে ভারতীয় বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা থাকলে সেগুলো দূর করার জন্য কার্যকর দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।

ভারতীয় স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। পণ্য খালাসে বিলম্ব, মান যাচাইয়ের জটিলতা, পরিবহনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং কাস্টমস প্রক্রিয়ার অসামঞ্জস্য রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। তাই বাণিজ্যবিষয়ক বৈঠকের ফলাফল মূল্যায়নে শুধু আলোচনার বিষয়বস্তু নয়, বাস্তবে কতটি প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে, পণ্য পরিবহনের ব্যয় কতটা কমেছে এবং রপ্তানির সুযোগ কতটা বেড়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

সীমান্তে পুশইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণহানি, চোরাচালান, মানব পাচার, অবৈধ চলাচল এবং নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। ৬ অক্টোবর পঞ্চগড়ের মালকাডাঙ্গা সীমান্তে সাতজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানায় বিজিবি। ৯ অক্টোবর মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে চারজনকে নিয়ে একই ধরনের একটি প্রচেষ্টা প্রতিহত করার খবরও প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

১১ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ঠোঠারপাড়া সীমান্তেও চারজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা প্রতিহত করে বিজিবি। বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে সংশ্লিষ্টদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এসব ঘটনা সম্পর্কে তথ্য মূলত বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা উচিত।

নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সার্বভৌমত্ব : বাংলাদেশের বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের ভারতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কর্মকাণ্ডকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের প্রত্যাশা, তার ভূখণ্ড ভারতের নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হবে না। একইভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ থাকলে তার প্রমাণভিত্তিক তদন্ত হওয়া উচিত। দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরেও বিস্তৃত। সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান, মানব পাচার, অবৈধ অস্ত্র চলাচল এবং আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে তথ্য বিনিময় ও নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। তবে কার্যকর সহযোগিতার জন্য এক দেশের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অন্য দেশের বৈধ উদ্বেগও বিবেচনা করতে হবে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান এবং সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য ও বাংলাদেশের স্বার্থ : চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও কৌশলগত স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বহুমুখী অংশীদারি ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমার্থক নয়। একইভাবে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার অর্থ অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করা নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিটি অংশীদারির অর্থনৈতিক সুবিধা, নিরাপত্তাগত ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান দুই দেশের সহযোগিতাকে দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব দিয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, নদীর পানি, বিদ্যুৎ, শিল্পের কাঁচামাল, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে উভয়ের স্বার্থ রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে পারস্পরিক নির্ভরতা কোনো পক্ষের সব প্রত্যাশা মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, স্বচ্ছতা এবং ন্যায্য সমঝোতা।

আস্থার পরীক্ষা : প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তব ফলাফল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অগ্রগতি মূল্যায়নে প্রত্যর্পণ, গঙ্গার পানিবণ্টন, সীমান্তে প্রাণহানি ও পুশইন প্রতিরোধ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ব, সময়সীমা এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকলে প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা যাচাই সহজ হবে। কূটনৈতিক বৈঠক ও ঘোষণার পাশাপাশি পরিমাপযোগ্য ফলাফলকে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি করা প্রয়োজন।

প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দ্রুত সমাধান না এলেও বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নদীর পানিবণ্টনের মতো ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের উচিত আলোচনার ক্ষেত্রগুলো পৃথকভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং যেখানে সমঝোতা সম্ভব, সেখানে বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। একই সঙ্গে কোনো অগ্রগতির দাবি করার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও আনুষ্ঠানিক নথি দিয়ে তা যাচাই করা জরুরি। স্থায়ী আস্থা গড়ে উঠবে তখনই, যখন পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেবে।

♦ লেখক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights