তরুণীকে ধর্ষণ ও কিশোরীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার
অনলাইন ডেস্ক
গত সপ্তাহে কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা একুরহুলেনিতে যেসব নয়জন নারীর মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল, তাঁদের স্মরণ করা হয়। অন্য একটি মামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মানবপাচার এবং যৌন প্রলোভনের মাধ্যমে শিশু/কিশোরীকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। (গার্ডিয়ান)
১৮ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণ এবং ১৬ বছরের এক কিশোরীকে যৌন প্রলোভনে ফেলার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা শাদরাক সিবিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির উপ-জাতীয় পুলিশ কমিশনার পদে থাকা সিবিয়া এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগে।
সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মানব পাচার, শিশুকে যৌন প্রলোভনে ফেলা এবং শিশু যৌন হয়রানির দুটি অভিযোগসহ মোট কয়েকটি ধারায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার জোহানেসবার্গের একটি আদালতে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হাজির করা হয় সিবিয়াকে। পরে তাকে রাজধানী প্রিটোরিয়ার একটি কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তিনি পালিয়ে যেতে পারেন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তার জামিন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মে মাসে জোহানেসবার্গের স্যান্ডটন ব্যবসায়িক এলাকায় একটি হোটেলে ১৮ বছর বয়সী তরুণীকে ধর্ষণ করেন সিবিয়া। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের দেওয়া মাদকজাতীয় পদার্থের কারণে তরুণী অচেতন অবস্থায় ছিলেন।
এ ছাড়া ২০ জুলাই থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন প্রলোভনে ফেলার অভিযোগ রয়েছে সিবিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি ওই কিশোরীকে নগ্ন ছবি পাঠিয়েছিলেন।
মঙ্গলবারের শুনানিতে সিবিয়া কোনো অভিযোগের জবাব বা স্বীকারোক্তি দেননি। তার আইনজীবী আদালতকে জানান, সিবিয়ার সঙ্গে পরামর্শ করে তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিতে আরও সময় প্রয়োজন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার পুলেং দিমপানে বলেন, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভারপ্রাপ্ত পুলিশমন্ত্রী ফিরোজ কাচালিয়াও অভিযোগগুলোকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ উঠলে তা ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই তদন্ত করতে হবে।
সিবিয়ার বিরুদ্ধে এর আগে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছিল। ফেব্রুয়ারিতে ম্যাডলাঙ্গা কমিশনের শুনানিতে তিনি কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশ থেকে ১২১টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতীয় পুলিশ সদর দপ্তরে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ ছাড়া ব্যবসায়ী ভুসিমুজি ‘ক্যাট’ মাতলালার কাছ থেকে ২০টি ইমপালা উপহার নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন সিবিয়া। মাতলালা পুলিশের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ৩৬ কোটি র্যান্ডের একটি চুক্তি পাওয়ার পর ওই উপহার দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে মাতলালার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ পাচারসহ একাধিক মামলাও রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
