‘তাকে ছাড়া গজনি সফল হতো না’, প্রদীপ রাওয়াতকে আমির খানের শ্রদ্ধাঞ্জলি

শোবিজ ডেস্ক

ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী খলনায়ক ও প্রবীণ অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াতের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বলিউড সুপারস্টার আমির খান। ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৪ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই বহুমুখী অভিনেতা।

প্রদীপের বিয়োগে পুরো বিনোদনজগতে শোকের ছায়া নেমে এলে তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা ও বন্ধুত্বের স্মৃতি স্মরণ করে এক আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন আমির খান।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রদীপ রাওয়াতের কাজের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসা করে আমির খান বলেন, অভিনেতা হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এবং নির্ভীক। ‌‌‘গজনি’ চলচ্চিত্রে প্রদীপজি মূল নামভূমিকা বা টাইটেল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আমার মতে, ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রভাবশালী ও নজরকাড়া পর্দার খলনায়ক। প্রদীপজিকে ছাড়া এই চলচ্চিত্রটি কোনোভাবেই সফল বা কার্যকরী হতে পারত না।

‘গজনি’র পাশাপাশি ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মহাকাব্যিক সিনেমা ‘লাগান’-এ দেব সিং সোডি চরিত্রে প্রদীপ রাওয়াতের অনবদ্য অভিনয়ের কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন আমির। প্রদীপের স্বকীয় ধারার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমার মনে হয় না সোডি চরিত্রে এত চমৎকার ‘সোয়্যাগ’ বা স্টাইল নিয়ে আর কেউ অভিনয় করতে পারতেন। তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন বহুমুখী প্রতিভাধর অভিনেতা ছিলেন। তার চলে যাওয়ার খবরটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতা বৃদ্ধির পর প্রদীপ রাওয়াতকে প্রথমে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভিওয়ান্দির একটি ক্যানসার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি তার স্ত্রী ও পুত্র বিক্রমাস্তকে রেখে গেছেন। আজ বুধবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে।

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রদীপ রাওয়াত ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার তামিল সিনেমা ‘গজনি’-তে নির্দয় খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। তার সেই পারফর্ম্যান্স এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে, ২০০৮ সালে তৈরি ছবিটির হিন্দি রিমেকেও আমির খানের বিপরীতে তাকে একই চরিত্রে ফিরিয়ে আনা হয়। এর আগে ১৯৮৫ সালে ‘মেরি জং’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখলেও, বি আর চোপড়ার কালজয়ী টিভি ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ দ্রোণাচার্যের পুত্র ‘অশ্বত্থামা’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথম দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পান। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে এস এস রাজামৌলির ‘সাই’ সিনেমার মাধ্যমে তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে তার শক্তিশালী অভিষেক ঘটে, যা তার অভিনয়জীবনের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights