তানজিদকে টেস্ট দলে নেওয়ার কারণ জানালেন বাশার

অনলাইন ডেস্ক

তানজিদের ন্যাচারাল স্ট্রোক প্লেতে আস্থা রাখতে চান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। কিছুটা ভিন্ন ঘরানার টেস্ট খেলতেই তানজিদকে দলে আনা, জানিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তান সিরিজের ঢাকা টেস্টের স্কোয়াডে দুই নতুন মুখ তানজিদ হাসান তামিম এবং অমিত হাসান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রানবন্যা বইয়ে দিয়ে জাতীয় দলের দরজা খুলেছেন অমিত। অন্যদিকে তানজিদ সাদা বলে জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ, প্রথম শ্রেণিতেও রেকর্ড ভালো। টেস্ট দলে ডাক পেলেন প্রথমবারের মত।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভালো করার পরেও আন্তর্জাতিকে এসে মানিয়ে নিতে না পারার ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে বিশ্ব ক্রিকেটে। বাংলাদেশেই আছে অনেক। তবুও দল নির্বাচনে আস্থা রাখতে হবে তো সেই ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সেই। সাথে তানজিদের ন্যাচারাল স্ট্রোক প্লেতেও আস্থা রাখতে চান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। কিছুটা ভিন্ন ঘরানার টেস্ট খেলতেই তানজিদকে দলে আনা, জানিয়েছেন তিনি।

ক্রিকেটবিশ্বে টেস্টেও আগ্রাসী ক্রিকেটের চল এখন। ইংল্যান্ডের বাজবলের দেখাদেখি অন্য অনেক দলও টেস্টে ধ্রুপদি ক্রিকেট থেকে বেরিয়ে এসে চাইছে কিছুটা আগ্রাসী ধাঁচের ক্রিকেট খেলতে। তানজিদকে দলে নেওয়ার ব্যাখ্যাতে বাশার বললেন সেসবই।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেছেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখনও পর্যন্ত খুব একটা গর্ব করে বলতে পারব না যে আমরা খুব ভালো খেলেছি। আমাদের পরিকল্পনা, এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যেন ভালো করতে পারি। আগে আমরা খুব একটা ভালো করিনি, সেখান থেকে যেন নিজেদেরকে আরেকটু ওপরের দিকে নিয়ে আসতে পারি। সেটা করার জন্য হয়তো আমরা ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারি। একটু আগ্রাসী ক্রিকেটের দিকেও যেতে পারি।’

বাশার জানান, ‘আপনারা দেখেছেন নতুন ওপেনার নিয়েছি (তানজিদকে), সেটা এই পরিকল্পনার অংশ। আমাদের বোলিং বিভাগ ভালো। ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য আছে। ব্যাটিংয়ে যদি ধারাবাহিকভাবে ভালো হতে পারি, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ভালো করবে। হয়তো স্টাইলটা একটু বদল হতে পারে। ‘বাজবল’ বলছি না, তবে স্টাইলটা পরিবর্তন হতে পারে।’

প্রধান নির্বাচকের মতে, ‘আমরা যখন কোনো ক্রিকেটার বাছাই করছি, তার খেলার ধরণ দেখে নির্বাচন করছি। যাকে যেটা দেখে দলে নিয়েছি, আমরা চাচ্ছি সে ওই ধরণের ক্রিকেটই খেলুক। আমাদের খেলা কেমন হবে, আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেব। তবে এটা আমাদের পরিকল্পনা যে, আমরা এমন ক্রিকেট খেলতে পারি। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চাইলে ওই ধরণের ক্রিকেটার লাগে। এটা পরিকল্পনার অংশ।’

টেস্ট দলে ওপেনার আছেন ৩ জন। মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলামের সাথে তানজিদ হাসান তামিম। সর্বশেষ আয়ারল্যান্ড সিরিজে ভালো করায় জয়-সাদমানের একাদশে জায়গা পাওয়া প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়। তানজিদকে সেক্ষেত্রে একাদশে সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটের মতই দিতে হবে ধৈর্যের পরীক্ষা।

তবুও তানজিদের নিজস্ব খেলার ধরণেই আস্থা রাখতে চান প্রধান নির্বাচক বাশার, ‘যে ধরণের ক্রিকেট যে খেলে, তাকে ওভাবে খেলতে দেব। আমাদের যে দুজন ওপেনার আছে, তাদের নিজস্ব স্টাইল আছে। আমি চাই না তারা সহজাত স্টাইলের বাইরে গিয়ে খেলুক। কারণ তাতে সাফল্যের হার কমে যায়। তারা ফর্মে আছে, ম্যানেজমেন্টের পছন্দ তারাই। আমি বলছি ভবিষ্যতে যদি পরিকল্পনা বদল করতে হয়, তার জন্য অপশন হাতে রাখা। আমি সাদমানকে বলব না তামিমের (তানজিদের) মতো খেলতে বা তামিমকে বলব না সাদমানের মত খেলতে।’

৮ মে ঢাকা টেস্ট দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights