তেহরানে কূটনৈতিক তৎপরতা, বিশ্ববাজারে কিছুটা কমল তেলের দাম
অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরুর মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।
আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামেও পতন দেখা গেছে।
সোমবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৫৯ মিনিট) পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৮২ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে তেলের দামে এ পতনকে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠক শুরু হয়েছে। অঞ্চলটির উত্তেজনা কমানো এবং সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর আগে রবিবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা আঞ্চলিক অস্থিরতা প্রশমনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরান সফর করেন। তাদের এ সফরের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল। কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় বাজারে যুদ্ধের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে- এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
তবে দাম কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমার ওপরে রয়েছে। অর্থাৎ, কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি দেখা দিলেও জ্বালানিবাজারে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বাড়লে তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং পরিবহন ব্যয়ের ওপর।
অন্যদিকে, উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমতে পারে। এতে তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। তেহরানে চলমান বৈঠক ও কাতারের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বাজারে সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে এমন প্রত্যাশা কাজ করছে।
তবে তেলের দাম পরবর্তী সময়ে কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের স্বাভাবিকতা ফিরে আসার ওপর। সংঘাতের আশঙ্কা আবার বাড়লে তেলের দামও নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
তাই বলা যায়, কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন দেখা গেলেও দাম এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপরই আপাতত জ্বালানিবাজারের গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করছে। সূত্র: আল-জাজিরা
