দেশে প্রথমবারের মতো সফল ভেনাস সাইনাস স্টেন্টিং, প্রশংসায় ভাসছেন ডা. হিমু

অনলাইন ডেস্ক

দেশে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে অত্যন্ত জটিল ও আধুনিক ভেনাস সাইনাস স্টেন্টিং (ভিএসএস) অপারেশন। এই অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজিস্ট সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির হিমু।

প্রথম বাংলাদেশি চিকিৎসক হিসেবে তার এ অনন্য সাধারণ কৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হচ্ছে।

জানা যায়, একজন তরুণী দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মাথাব্যথা এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের (ভিজ্যুয়াল ইমপেয়ারমেন্ট) সমস্যায় ভুগছিলেন।

চিকিৎসকদের ভাষায় রোগটি ছিল ইডিওপ্যাথিক ইন্ট্রাক্রানিয়াল হাইপারটেনশন (আইআইএইচ)। ডা. হিমু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন, ওই তরুণীর চোখের ফান্ডোস্কোপিতে ‘বাইলেটারাল প্যাপিলোইডিমা’ ধরা পড়ে এবং মস্তিষ্কের সিএসএফ (সিএসএফ) ওপেনিং প্রেসার ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি (৩০ সেমি ওয়াটার)। এছাড়া তার মস্তিষ্কের রক্তনালীতে (ট্রান্সভার্স-সিগময়েড সাইনাস) ব্লক বা সংকোচন (স্টেনোসিস) ছিল।

এই জটিল পরিস্থিতি থেকে রোগীকে বাঁচাতে ভেনাস সাইনাস স্টেন্টিং অপারেশন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন ডা. হুমায়ুন কবির হিমু। সফল অপারেশনের মাত্র দুইদিনের মাথায় ওই তরুণী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তার চোখের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরে পান।

ডা. হুমায়ুন কবির হিমুর এ ঐতিহাসিক সাফল্য কেবল বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ডা. হিমুর এ কৃতিত্বে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নিজের ভেরিফায়েড লিংকড-ইন প্রোফাইলে বিশেষ পোস্ট দিয়েছেন ফ্রান্সের প্যারিসভিত্তিক বিশ্ববিখ্যাত বিসেত্র হাসপাতাল এপি-এইচপি’র নামকরা ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজিস্ট জিলদাজ ক্যারফ।

ডা. হিমুর প্রশংসা করে ফরাসি বিশেষজ্ঞ জিলদাজ ক্যারফ লিখেছেন, ‘তোমার জন্য এবং তুমি তোমার দেশের মানুষের জন্য যা তৈরি করছো, তার জন্য অত্যন্ত গর্ববোধ করছি। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভেনাস সাইনাস স্টেন্টিং সম্পন্ন করা এবং সেই তরুণীর দৃষ্টিশক্তি ও মুখের হাসি ফিরিয়ে আনা-এটাই প্রমাণ করে আমাদের এ কাজগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তুমি যা শিখেছো তা নিজের দেশে নিয়ে গিয়ে এমন রোগীদের সেবা দিয়েছো, যাদের আগে এই চিকিৎসার কোনো সুযোগই ছিল না। এর জন্য যেমন দক্ষতা প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন সাহস ও বড় মন।’

এ ঐতিহাসিক অর্জনের পর ডা. হুমায়ুন কবির হিমু মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন, ‘আমাদের দেশে এটিই প্রথম। অপারেশনের পর ওই তরুণীর মুখের হাসি আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।’

তিনি ফ্রান্সে তার মেন্টর ও প্রশিক্ষক অধ্যাপক লরেন্ট স্পেল এবং জিলদাজ ক্যারফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা তাকে বিসেত্রে হাসপাতালে এ আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি শিখিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ফ্রান্সে তার কেসগুলো নিয়ে সার্বক্ষণিক আলোচনা করার জন্য জোনাথান এবং বাংলাদেশে তার ওপর অবিচল আস্থা ও নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের জন্য মেন্টর সিরাজী শফিকুল ইসলামের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights