নাগালের বাইরে সুগন্ধি চাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা ঘরোয়া যেকোনো আয়োজনে পোলাও যেন অপরিহার্য একটি খাবার। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার পছন্দের এই খাবার রান্না করতে প্রয়োজন হয় সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চাল। তবে সেই চাল কিনতেই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গত এক মাসে মানভেদে সুগন্ধি চালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

গতকাল রাজধানীর মিরপুর-১১ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক মাসের ব্যবধানে খোলা সুগন্ধি চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজারে খোলা চালের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালও বিক্রি হচ্ছে। কোম্পানিভেদে ১ কেজি কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২১০-২৩০ টাকায়। অন্যদিকে খোলা সুগন্ধি চালের দাম প্রতি কেজি ১৮০-২০০ টাকা। অথচ মাত্র এক মাস আগেও একই ধরনের চাল ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য চালের মধ্যে মাঝারি মানের চালের কেজি ৬৫ এবং মোটা চাল ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা, মাঝারি মানের পাইজাম ৫৮-৬৫ টাকা এবং স্বর্ণা ও চায়না ইরি চাল ৫৫-৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেটের মধ্যে প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের চাল ৮৫-৮৮ ও রশিদ ৭৮-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দামি মিনিকেট মোজাম্মেল বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়। সবজির মধ্যে পটোল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্ধল ৬০-৭০, বেগুন ৯০-১০০, বরবটি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া করলা, কাঁকরোল ৭০-৮০, আলু ৩০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। মানভেদে লাউ পিসপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকায়। এ ছাড়া পেঁপে ৫০-৬০, কাঁচা মরিচ ২৫০-২৮০ ও মানভেদে লেবুর হালি ২০-২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। চিকন মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১৬০ এবং মোটা মসুর ডাল ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় মুগ ডাল ১৪০, ছোট ১৭০, খেসারি ১০০, বুটের ডাল ১১৫ এবং মাষকলাই ডাল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০-২০০ ও সোনালি মুরগি ৩২০-৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লাল লেয়ার মুরগি ৩৭০ এবং দেশি মুরগি ৬৮০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ফার্মের লাল ডিম ডজন ১৫০-১৫৫ ও সাদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হাঁসের ডিম ডজন ২২০-২৩০, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। মাছের মধ্যে রুই ও কাতলা কেজিপ্রতি ৩০০-৩৫০, পাঙাশ ১৮০-২০০ এবং তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ৬৫০-৭৫০ টাকা। মাঝারি আকারের কই মাছ ২০০-২৫০, দেশি শিং ৬৫০-৭৫০, শোল ৬৫০ এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৭০০, কাঁচকি মাছ ৪০০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights