নাজমুলদের ছেলেখেলার ক্রিকেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক
এমন সুযোগ কি সবসময় মেলে? সোজাসাপ্টা উত্তর, কখনোই না। ভাগ্য খুব ভালো থাকলে এমন সুযোগ মেলে। খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার এমনই একটি সুযোগ মিলেছিল। সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেন নাজমুলরা বালখিল্যসুলভ ক্রিকেট খেলে! অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলে স্বপ্নের সেমিফাইনাল খেলতে ১২.১ ওভারে ১১৬ রান টপকাতে হবে। এ জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে আর্টিলারি ফোর্সের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হতো নাজমুলদের। সেই পথে হাঁটেননি ক্রিকেটাররা। পেছনের রাস্তা দিয়ে পলায়নপর ক্রিকেট খেলেছেন। ক্রিকেটারদের এমন ক্রিকেট খেলার কোনো উত্তর নেই। এই হারের কোনো ব্যাখ্যাও জানা নেই কারও। এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে অধিনায়ক নাজমুল শান্ত অবলীলায় ক্রিকেটপাগল জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। অথচ তারা বিন্দুমাত্র উপলব্ধি করতে পারেননি, তার এই ক্ষমা চাওয়া ক্রিকেটপ্রেমীদের ইমোশনের আগুনে জল নয়, ঘি ঢেলে দেওয়ারই শামিল!

দলের থিঙ্ক ট্যাংক চন্ডিকা হাতুরাসিংহের বিষয়ে অবশ্যই ভাবা উচিত ক্রিকেট ম্যানেজমেন্টের। একরোখা, গোঁয়ার হাতুরাসিংহে স্কোয়াড গঠনে প্রভাব বিস্তার করেন। জুনিয়রদের প্রাধান্য দিতে সিনিয়রদের বাদ দেন। তার এই সিদ্ধান্তের ভুক্তভোগী এবার দল। ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের পরিবর্তে তানজিদ তামিমকে খেলিয়েছেন জোর করে। কিন্তু ফল কী? ৭ ম্যাচে টাইগারদের ওপেনিং জুটির স্কোর যথাক্রমে-১, ৯, ৩, ০, ০, ৩৫ ও ১৬। সুপার এইটে ওঠার পর টাইগার কোচ সেমিফাইনালে খেলার তাগাদা না নিয়ে চাপমুক্ত ক্রিকেট খেলার উপদেশ দেন। বলেন, ‘সুপার এইটে ওঠায় আমাদের টার্গেট পূরণ হয়েছে। এখন চাপমুক্ত, উপভোগ্য ক্রিকেট খেলে যা পাবে, সেটাই বোনাস!’ কী অদ্ভুত মানসিকতা! আফগানিস্তানের টার্গেট তাড়া করে সেমিফাইনালের বিষয়ে নাজমুল জানান, প্রথম ৩ উইকেটে আগ্রাসি ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা ছিল। যদি পরিকল্পনা কাজে না দেয়, তখন পরের ধাপে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলে জিততে খেলবে। অথচ ডিএল মেথডে হেরেছে ৮ রানে। এ কেমন পরিকল্পনা। অনেকটা যেন জান বাঁচানো খেলা। আশ্চর্য হলেও সত্যি, এই পরিকল্পনা আবার সতীর্থরাও মেনে নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights