নাড়ির টানে চট্টগ্রাম ছাড়ছেন মানুষ, রেলে বেড়েছে যাত্রীর চাপ

ইমরান এমি, চট্টগ্রাম

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। সড়কপথের যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন রেলপথ। ফলে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। বিজয় এক্সপ্রেস ছাড়া প্রায় সব আন্তঃনগর ট্রেনই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

রবিবার সকাল থেকেই স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে দেখা যায়। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন অনেকে। কেউ পরিবারকে আগে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ একসঙ্গে যাত্রা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী বেশি ছিল। বিশেষ করে জামালপুরগামী বিজয় এক্সপ্রেস, সিলেটগামী পাহাড়িকা-উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী মহানগর গোধূলী এবং চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেসে যাত্রীচাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রায় সব আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও বিজয় এক্সপ্রেস স্টেশন ছেড়েছে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে। যাত্রীরা জানান, ট্রেনটির প্রায়ই শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।

ঈদ উপলক্ষে শনিবার থেকে পাঁচ দিনের অগ্রিম টিকিটে যাত্রা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রোববার বিক্রি হয়েছে আগামী ৩ জুনের যাত্রার টিকিট। যাত্রীসেবা সহজ করতে সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে এবং ঈদের অগ্রিম টিকিট ফেরতযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ১৬ জোড়া অর্থাৎ ৩২টি ট্রেনে প্রায় ১০ হাজার যাত্রী আসন নিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, অগ্রিম টিকিট, স্পেশাল ট্রেন ও স্ট্যান্ডিং টিকিট মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার যাত্রী ঈদযাত্রায় অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া ঈদের দুই দিন আগে থেকে চট্টগ্রাম-চাঁদপুরসহ বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেন চালানো হবে।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) জেনারেল শাখার ইনচার্জ আমান উল্লাহ আমান বলেন, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আরএনবি। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং যাতে কোনো যাত্রী হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights