নারী শ্রমিকের আয় পুরুষের চেয়ে ২৬ শতাংশ কম
ইমরান চৌধুরী
কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলেও শ্রমিকদের মজুরি এখনো অনেক কম। নারী-পুরুষ মজুরির ব্যবধান এবং বাস্তব আয়ের সীমাবদ্ধতা এখনো বিদ্যমান। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে একজন পুরুষ কৃষি শ্রমিক দৈনিক গড়ে ৬২৫ টাকা মজুরি পেলেও নারী শ্রমিক পেয়েছেন ৪৬২ টাকা। অর্থাৎ নারী শ্রমিকের মজুরি পুরুষের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম। তিন বেলা খোরাকিসহ মজুরি বিবেচনায় পুরুষ শ্রমিক পান ৫২৩ টাকা, নারী শ্রমিকের আয় ৩৮৫ টাকা। দুই বেলা খোরাকিসহ পুরুষ শ্রমিক ৫৪৮, নারী শ্রমিক ৩৯১ ও এক বেলা খোরাকিসহ পুরুষ শ্রমিক ৫৭৭ এবং নারী শ্রমিক ৪২৬ টাকা পান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ‘শস্য পরিসংখ্যান ও কৃষি শ্রমিকের মজুরি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ মানুষ এ খাতে নিয়োজিত। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তাফা কে মুজেরী বলেন, দেশে কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়লেও তার সুফল কৃষকের আয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে না। কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। তাদের প্রকৃত আয় স্থবির রয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনা, মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব এবং উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে কৃষকের লাভ কমে যাচ্ছে। কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কৃষকের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি, বাজার ব্যবস্থাপনার সংস্কার এবং নারী-পুরুষ মজুরি বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বিবিএসের ত্রৈমাসিক (গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বোরো ধানের আওতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ৬১৬ একর এবং উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার ৯৮৮ মেট্রিক টন। একই সময়ে গমের আবাদ হয়েছে ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৪ একর জমিতে, উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৪১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন। তেলবীজের মধ্যে চিনাবাদামের আবাদ ১০ হাজার ৩৩৪ একর থেকে কিছুটা কমে ১০ হাজার ২০৭ একরে এলেও উৎপাদন ৮ হাজার ২৫৭ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে প্রায় ৯ হাজার ২৮৮ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। আঁশজাত ফসলের মধ্যে তুলার আবাদ ১৬ হাজার ৫৫৯ একর থেকে কমে ১৩ হাজার ৭১৪ একরে নেমেছে। উৎপাদনও ১০ হাজার ৯৬৫ বেল কমে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৮ বেলে। আলুর আবাদ ১২ লাখ ২২ হাজার ৯২৮ একর এবং উৎপাদন ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টনের বেশি হয়েছে, যা খাদ্য সরবরাহে বড় অবদান রাখছে। সবজি খাতে কুমড়া, বেগুন, বরবটি, কাঁচামরিচ, ওলকচু, মানকচু, ধুন্ধলসহ অধিকাংশ ফসলের উৎপাদন বেড়েছে। যেমন কাঁচামরিচের উৎপাদন প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টনের বেশি হয়েছে।
