নাসা কি ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব নিশ্চিত করল?

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, নাসার কাছে এমন কিছু অজ্ঞাত বস্তুর ছবি রয়েছে যা বিজ্ঞানীদের পক্ষে এখনও ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ‘দ্য জ্যাক গর্ডন পডকাস্ট’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইজ্যাকম্যান জানান, নাসার সংগ্রহে থাকা কিছু ছবিতে এমন সব দৃশ্য ধরা পড়েছে যা কোনো ধূমকেতু বা অন্য কোনো পরিচিত প্রাকৃতিক ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে ছবিগুলোতে ঠিক কী রয়েছে, তা নাসার কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।

অবশ্য জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সরাসরি এই ছবিগুলোকে এলিয়েন (ভিনগ্রহের প্রাণীর) অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাবি করেননি। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব থাকাটা খুবই স্বাভাবিক এবং আমাদের জীবনদ্দশাতেই হয়তো এর সন্ধান মিলতে পারে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন একটা সম্ভাবনা প্রবল যে আমরা হয়তো আমাদের জীবদ্দশাতেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব যে মহাবিশ্বের সর্বত্রই প্রাণ ছড়িয়ে রয়েছে, যা আমরা ভাবি তার চেয়েও অনেক বেশি সাধারণ ঘটনা এটি।

ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে নানা সময়ে ডালপালা মেলা ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো অবশ্য নাকচ করে দিয়েছেন নাসার এই প্রধান। মার্কিন সরকারের কাছে দুর্ঘটনাকবলিত এলিয়েনদের মহাকাশযান বা তাদের মৃতদেহ সংরক্ষিত আছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের দাবির পক্ষে তিনি কখনও কোনো প্রমাণ দেখেননি। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নাসার কাছে ইতিমধ্যেই এলিয়েনের অস্তিত্বের পরোক্ষ প্রমাণ থাকতে পারে। মঙ্গল গ্রহে নাসার সংগ্রহ করে রাখা মাটির নমুনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সেই নমুনাগুলো যদি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, তবে খুব উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে যে সেগুলো লাল গ্রহে অন্তত অণুজীব (মাইক্রোবিয়াল) প্রাণের অস্তিত্বের জানান দেবে।

কোটিপতি উদ্যোক্তা এবং বেসামরিক মহাকাশচারী থেকে নাসার শীর্ষ পদে বসা জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের মতে, মহাবিশ্বে প্রাণের সন্ধান করা নাসার অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য। ‘আমরা কি মহাবিশ্বে একা?’ এই চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা নাসার কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু। একই সঙ্গে তিনি মানুষের মহাকাশ অভিযানের ওপর জোর দিয়ে বলেন, মানুষের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ কেবল একটিমাত্র গ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। মানুষের নিয়তি তাকে পৃথিবীর বাইরেও নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights