নেত্রকোনায় লোকসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে বাউল উৎসব

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতির মূলধারা বাউল সংগীতকে ফিরিয়ে আনতে নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বাউল উৎসব।

শনিবার জেলার কেন্দুয়া উপজেলার দলপা গ্রামের ইটাউতা গ্রামে বিশিষ্ট বাউল সাধক ও মরমী কবি আব্দুল মজিদ তালুকদারের ভিটায় বাউল উৎসবের আয়োজন করে স্থানীয় বাউল সমিতি সংগঠন। রাত ১০টা থেকে শুরু হওয়া বাউল গান চলে ভোররাত পর্যন্ত।

পৌষের হাঁড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ বাউল গান শুনতে ভোর রাত পর্যন্ত বসে থাকেন। ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের মানুষেরা এই বাউল উৎসবে মুগ্ধ হয়ে গান শোনেন। এতে শুধু স্থানীয় বাউল শিল্পীরাই গান করেননি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকেও তিনজন শিল্পী আসেন উৎসবে। তারা নিজেদের গান ও সংস্কৃতিকে বাংলাদেশের গান ও সংস্কৃতির সাথে মিলন ঘটান।
ভারতের ইন্ডিয়া রেডিওর প্রথম বাউল শিল্পী আব্দুল মজিদ তালুকদার স্মরণে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও তার নিজগ্রামে এই উৎসবের আয়োজন করে মজিদ তালুকদার স্মৃতি সংসদ। এতে আলোচনা সভা ও বিদেশি শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে গান শুরু হতেই সড়কবিহীন প্রত্যন্ত ইটাউতা গ্রামের আশপাশ থেকেও শত শত মানুষ পিন পতন নিরবতা নিয়ে গানে মজেন। বিলুপ্তির পথে যে সংস্কৃতি সেই সংস্কৃতিকে ধরে রাখার প্রয়াসে এমন আয়োজনে মুগ্ধ বাউল গান পূর্ব আলোচনায় অংশ নেয়া বিশিষ্টজনরা।

এসময় দর্শনার্থীদের ভিড়ে গ্রামের পরিবেশ পুরনো দিনে ফিরে গেছে বলেও উল্লেখ করেছেন অতিথি রাজুরবাজার কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ ও গবেষক গোলাম মোস্তফাসহ ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সম্পাদক কবি স্বাধীন চৌধুরী। তারা মনে করেন সুস্থ ধারার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনলে নতুন প্রজন্ম ডিভাইসের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে। সুস্থ ধারার জীবন যাপনে অভ্যস্থ হবে। পাশাপাশি বাঙ্গালির যে গৌরবের ঐতিহ্য তা ফিরে আসবে। কারণ বাউলরা গানের মধ্যে দিয়ে নানা বার্তা পৌঁছে দেয়। যেগুলো সমাজে চলমান থাকলে অস্থিরতা কমবে। সেজন্য পৃষ্টপোষকতার দাবিও জানান তারা।

আয়োজক বাউল শিল্পী আবুল বাশার বলেন, নেত্রকোনায় দীর্ঘদিন পর হলেও একটি বাউল সমিতি করা হয়েছে। এই সমিতির কাজই হচ্ছে সত্যিকারের বাউল পালাগানকে পুনরুদ্ধার করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights