ন্যানোটেকনোলজি ছাড়া টেকসই টেক্সটাইল শিল্প গড়া কঠিন: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

অনলাইন প্রতিবেদক
বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করতে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

তিনি বলেন, টেক্সটাইল ওয়েট প্রসেসিং খাতে অতিরিক্ত পানি ও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ ও পানিসম্পদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় ন্যানোটেকনোলজি কার্যকর সমাধান হতে পারে।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল টেক্সটাইল ওয়েট প্রসেসিং থ্রু ন্যানোটেকনোলজি: ইন্ডাস্ট্রিয়াল অপরচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইইবির টেক্সটাইলকৌশল বিভাগ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নে এই খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ডাইং, ওয়াশিং ও ফিনিশিং প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে। ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার বাড়ানো গেলে পানির অপচয় ও রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদনকে আরও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব হবে বলে মত দেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, এই প্রযুক্তি চালু করতে প্রাথমিকভাবে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, তাই শিল্পখাতকে সহায়তা দিতে সরকারের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

হাবিবুর রশিদ হাবিব আরও বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রকৌশলীদের শুধু চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি আরও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমেই শিল্পখাতকে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবির টেক্সটাইলকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, টেক্সটাইল শিল্পে বিপুল পরিমাণ পানি ও রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, পানি পুনর্ব্যবহার এবং গ্রীন এনার্জির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে এই শিল্পকে আরও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব।

এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক শাহরিন ইসলাম তুহিন বলেন, উন্নত দেশগুলো টেক্সটাইল খাতের আয়ের বড় অংশ গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করায় তারা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও আধুনিক টেক্সটাইল গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজউক’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, টেক্সটাইল খাতকে গবেষণাভিত্তিক শিল্পে রূপান্তর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে আধুনিক টেক্সটাইল গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবিও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল (বুটেক্স)-এর উপাচার্য মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, টেক্সটাইল শিল্পের রাসায়নিকযুক্ত বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন ছাড়া পরিবেশে ফেলা হলে তা নদী, খাল ও ভূগর্ভস্থ পানির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ইটিপি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর উদ্যোগেই ১৯৭৮ সালে দেশে টেক্সটাইল বিষয়ে স্নাতক শিক্ষা কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

স্বাগত বক্তব্যে আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, টেক্সটাইল খাত বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করলেও সুতা, কাপড়, কেমিক্যাল ও যন্ত্রাংশ আমদানির কারণে সেই আয়ের বড় অংশ বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাই কাঁচামাল উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিকল্প নেই।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইমানা শাহরিন তানিয়া। তিনি বলেন, ওয়েট প্রসেসিং খাতে অতিরিক্ত পানি, জ্বালানি ও রাসায়নিক ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে ন্যানোটেকনোলজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. মুস্তফা-ই-জামান। শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সায়েদুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights