পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের খুব নিকটে তুরস্ক?

অনলাইন ডেস্ক

তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক যোগ হয়েছে। দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার বিমান ‘কান’-এর ট্যাক্সি পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (টিএআই)-এর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে কানের নতুন প্রোটোটাইপটিকে নিজস্ব শক্তিতে চলতে দেখা গেছে। এর মাধ্যমে বিমানটির ইঞ্জিন, ব্রেক, স্টিয়ারিং এবং ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমের কার্যকারিতা সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্যাক্সি পরীক্ষার পর যেকোনো মুহূর্তে বিমানটির প্রথম আকাশে ওড়ার ঐতিহাসিক ক্ষণটি ঘনিয়ে আসছে।

নতুন এই প্রোটোটাইপটির নাম দেওয়া হয়েছে পি ওয়ান, যা এর আগের পি জিরো মডেলের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও পরিপক্ব। মূলত বিমানটির মূল ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেম এবং মৌলিক প্ল্যাটফর্ম যাচাই করতেই পি জিরো তৈরি করা হয়েছিল। আর পি ওয়ান মডেলে যুক্ত করা হয়েছে অধিকতর উন্নত সিস্টেম আর্কিটেকচার। যা বিমানটির কার্যকারিতা, এভিয়নিক্স এবং মিশন সিস্টেমের পরীক্ষা সফল করতে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। ইতিমধ্যে দ্বিতীয় আরেকটি প্রোটোটাইপ পি টু-এর নির্মাণকাজও সমান্তরালভাবে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ দুটি বিমানকেই একসাথে বা পাশাপাশি আকাশে ওড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তুর্কি প্রকৌশলীদের।

তুরস্কের এই উচ্চাভিলাষী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে তুর্কি বিমান বাহিনীর বহরে এই আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো যুক্ত করা। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এফ থার্টি ফাইভ প্রকল্প থেকে তুরস্ককে বাদ দেওয়ার পর মূলত নিজেদের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব অর্জন এবং মার্কিন নির্ভরতা কমাতেই এই যুদ্ধবিমান তৈরির উদ্যোগ নেয় আঙ্কারা। টুইন-ইঞ্জিন এবং সিঙ্গেল-সিটের এই স্টেলথ ফাইটারটিতে কম রেডিও সিগনেচার, কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল এবং ইন্টারনাল ওয়েপন বে বা অভ্যন্তরীণ অস্ত্র রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে শত্রু পক্ষের রাডারে ধরা না পরেই বিমানটি দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

শুধু মানবচালিত যুদ্ধবিমানই নয়, চালকবিহীন স্টেলথ প্রযুক্তিতেও সমানভাবে এগিয়ে চলেছে তুরস্ক। সম্প্রতি বেকর্সের তৈরি মানববিহীন ফাইটার জেট ‘কিজিল্লেমা’ এর অভ্যন্তরীণ অস্ত্রাগার থেকে সফলভাবে লাইভ-ফায়ার বা অস্ত্রের পরীক্ষামূলক নিক্ষেপ সম্পন্ন করেছে। কর্লু ফ্লাইট ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে কিজিল্লেমা তার গোপন বা স্টেলথ বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই শত্রুর গভীরে ঢুকে নিখুঁত আক্রমণ চালাতে পারে। মনুষ্যবাহী কান ফাইটারের সাথে এই চালকবিহীন কিজিল্লেমা ড্রোনগুলোকে একত্রে যুক্ত করে যুদ্ধের ময়দানে এক যুগান্তকারী যৌথ অভিযানের পরিকল্পনাও রয়েছে তুরস্কের, যা ভবিষ্যতে তুর্কি আকাশ প্রতিরক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

সূত্র: ইউরোশিয়ান টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights