পর্যাপ্ত ঘুমের পরও কাটছে না ক্লান্তি, করণীয় কী?
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি সারাদিন শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন লাগে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল অতিরিক্ত পরিশ্রম নয়, শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির অন্যতম কারণ হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের ভাষ্য, শরীরে বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস বা ক্ষুদ্র পুষ্টি উপাদানের অভাব হলে কোষ ও টিস্যুর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে শক্তি উৎপাদন কমে যায়, মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয় এবং সারাক্ষণ দুর্বল ও ক্লান্ত অনুভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন বি খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ভিটামিনের ঘাটতি হলে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি তৈরি হয় না, ফলে সহজেই ক্লান্তি ভর করে।
প্রোটিনের অভাব হলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য পেশির প্রোটিন ভাঙতে শুরু করে। এতে মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শর্করা বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলেও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। পানি, সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ঘাটতি শরীরকে নিস্তেজ ও অলস করে তোলে।
অন্যদিকে ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে এবং পেশিতে টান ধরার সমস্যা দেখা দেয়। ফলে রাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম হলেও শরীর পুরোপুরি পুনরুজ্জীবিত হতে পারে না।
ক্লান্তি দূর করতে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। ভিটামিন বি-এর জন্য প্রতিদিন টক দই বা পনির খাওয়া যেতে পারে। প্রোটিনের চাহিদা পূরণে মাছ, মাংস, ডিমের পাশাপাশি ছোলা, অঙ্কুরিত মুগ বা অন্যান্য ডাল খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি, তরমুজ, শসা, বিভিন্ন ফল এবং প্রতিদিন একটি কলা উপকারী হতে পারে। আর ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণে কুমড়ার বীজ, কাঠবাদাম ও কাজুবাদাম নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সুষম খাদ্য গ্রহণের পরও যদি দীর্ঘদিন ক্লান্তি অব্যাহত থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।
সূত্র: আনন্দবাজার
